খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
রজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ডিএমপির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রম, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজনদের আটক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২৬ জনকে আটক করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এর পরেই রয়েছে তেজগাঁও বিভাগ, যেখানে ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫৭ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৬ জন এবং উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৭ জনকে আটক করা হয়। রমনা বিভাগে ৩৯ জন, গুলশান বিভাগে ৩৪ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ পৃথক অভিযানে আরও ৬ জনকে আটক করেছে।
অভিযান চলাকালে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট ১২ হাজার ৮৪ পিস ইয়াবা, ১২০ গ্রাম গাঁজা, ১০০ বোতল এস্কাফ সিরাপ এবং নগদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। নগরীতে মাদক, চুরি, ছিনতাই, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের আদালতে সোপর্দ করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতও মামলার নথিতে সংযুক্ত করা হবে।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ডিএমপি জানিয়েছে।