খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে রোববার সন্ধ্যায় একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মিছিল এবং বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হারুনুর রশীদকে বহনকারী মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উভয় পক্ষই করেছে। ঘটনাটি মেনিপাড়া এলাকায় সংঘটিত হয় এবং এতে গাড়ি ধাক্কাধাক্কি, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ও শারীরিক হামলার নানা অভিযোগ ওঠে।
হারুনুর রশীদ জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক্রোবাসে যাচ্ছিলেন। পথে পৌর এলাকার মেনিপাড়ায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি মিছিলের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো হলেও মিছিল অতিক্রমের সময় জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা মাইক্রোবাসে ধাক্কাধাক্কি চালায় এবং গাড়িতে লাগানো ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। এতে ভেতরে বসে থাকা যায়নি। বেশিরভাগ ধাক্কাধাক্কি দেওয়া কিশোর বয়সী, ভোটারও নয়।”
হারুনুর রশীদের ছেলে, রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি মাইক্রোবাস থেকে নেমে এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিলের কর্মীদের সরিয়ে দেন। হারুনুর রশীদ বলেন, “এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী ও উসকানিমূলক আচরণ। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে এটি অগ্রহণযোগ্য।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি আমাদের জেলা নেতা আজিজুল হক নূরের ওপর হামলা করেছেন। নির্বাচনী মাঠে এমন পেশিশক্তির প্রদর্শনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” তারা রুবাইয়াৎ ও তাঁর দোসরদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। প্রতিবাদে রাতেই তারা বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরে আলম জানিয়েছেন, “এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিচের টেবিলে উভয় পক্ষের অভিযোগ সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| পক্ষ | অভিযোগের বিষয়বস্তু | অভিযোগের প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| হারুনুর রশীদ (বিএনপি) | মাইক্রোবাসে ধাক্কাধাক্কি, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা | মেনিপাড়া এলাকায় জামায়াত মিছিলের সময় |
| জামায়াতে ইসলামী | রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি হামলা | জেলা নেতা আজিজুল হক নূরের ওপর |
এই ঘটনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনী উত্তাপ এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।