খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টির মধ্যে একটি হলো গান ‘তুই ফেলে এসেছিস কারে’। সময়ের পরিপ্রেক্ষিত পাল্টালেও এই গান আজও তার তাজা আবেদন ধরে রেখেছে। নবীন ও প্রবীণ শ্রোতাদের কণ্ঠে এই গান যুগের পর যুগ ধরে ডানা মেলে। এবার সেই গান নতুনভাবে গাইলেন গুণী সংগীতশিল্পী সৈকত দাস, যার সঙ্গে সংগীতায়োজন করেছেন তরুণ সুরকার সুমন কল্যাণ। গানটি প্রকাশিত হবে আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সুমন কল্যাণের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে।
সৈকত দাস বলেন,
“সুমন কল্যাণ একদিন আমাকে বললেন, ‘দাদা, আধুনিক গান তো অনেক করলেন। আপনার কণ্ঠে রবীন্দ্র সংগীতের ঘ্রাণ আছে।’ এরপরেই আমি রবীন্দ্র সংগীত গাইতে শুরু করি। কাজটি করতে গিয়ে আমি আবারও রবীন্দ্র সংগীতের প্রেমে পড়ে গেলাম।”
সুমন কল্যাণ মন্তব্য করেন,
“সৈকত দা সত্তরের দশক থেকে গান করছেন। ওনার অনেক গান জনপ্রিয় শিল্পীদের গায়ক হয়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করেছে। কিন্তু তিনি নিজেকে কখনো সামনে আনেননি। আড়ালেই থেকেছেন। এরমধ্যে রবীন্দ্র ঠাকুরের কয়েকটি গানও তিনি করেছেন। আশা করি শ্রোতারা গানটি ভালোবাসবেন।”
সত্তরের দশক থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে নিয়মিত গান করে আসছেন সৈকত দাস। ১৯৮০ সালের পর সাদাকালো যুগ থেকে রঙিন যুগে প্রবেশের সময়ও তিনি বিটিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ উল্লেখযোগ্য তার গান ‘শিউলিমালা’, যা জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীর উপস্থাপিত অনুষ্ঠানে বাজানো হতো। পাশাপাশি, তিনি চট্টগ্রাম বেতার-এও নিয়মিত গান গাইতেন।
বর্তমানে সৈকত দাস বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত গান পরিবেশন করছেন। ‘তুই ফেলে এসেছিস কারে’ ছাড়াও তার আরও কয়েকটি গান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
নিচের টেবিলে সৈকত দাসের সঙ্গীত জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বছর/দশক | কর্মজীবনের ধারা | উল্লেখযোগ্য কাজ/সংগীত | মাধ্যম |
|---|---|---|---|
| ১৯৭০s | বিটিভিতে গান | বিভিন্ন নাটক ও অনুষ্ঠান | বাংলাদেশ টেলিভিশন |
| ১৯৮০ | রঙিন যুগে প্রবেশ | জনপ্রিয় গান ‘শিউলিমালা’ | বিটিভি, আলমগীরের উপস্থাপনা |
| ১৯৮০s–বর্তমান | চট্টগ্রাম বেতার | রেডিও গান পরিবেশন | চট্টগ্রাম বেতার |
| ২০২৬ | নতুন প্রকাশ | ‘তুই ফেলে এসেছিস কারে’ | ইউটিউব (সুমন কল্যাণ চ্যানেল) |
গানের কথামালায় রবীন্দ্রনাথের স্বকীয়তা, সৈকত দাসের আবেগময় কণ্ঠ এবং সুমন কল্যাণের সংগীতায়োজন একত্র হয়ে শ্রোতাদের জন্য এক অনন্য সুরভরা অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।