খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
একটি প্রতিষ্ঠানের ২৯৯ কোটি টাকার আয়কর কমিয়ে মাত্র ৩৩ কোটি টাকায় নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তদন্তে জানা গেছে, অনিয়মের বিনিময়ে তারা ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন।
এ ঘটনায় নোয়াখালী কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-৩-এর যুগ্ম কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর কর অঞ্চলের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে, জোবাইদা করিম জুট মিলস লিমিটেডের দুই করবর্ষে ২৯৯ কোটি টাকা আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী আপিল শেষে ট্রাইব্যুনাল সংশোধিত কর নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে পাঠায়।
কিন্তু উপ-কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম কোম্পানিকে কর কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। পরে পদোন্নতি ও বদলির সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার মাসুদুর রহমানকে দিয়ে ব্যাক ডেটের অর্ডারশিট তৈরি করান। এতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অমান্য করে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ২৯৯ কোটি টাকার কর কমে দাঁড়ায় ৩৩ কোটি টাকা।
তদন্তে দেখা গেছে, এই সিদ্ধান্তে কোনো রেঞ্জ বা কমিশনারের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। অনিয়মের মাধ্যমে ২৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ হয়। এর বিনিময়ে জাহাঙ্গীর আলম পান ৩০ লাখ এবং মাসুদুর রহমান পান ৫ লাখ টাকা।
তবে মাসুদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জাহাঙ্গীর আলমের অনুরোধে অর্ডারশিট তৈরি করেছি, এর বাইরে কিছু জানি না।”
ঢাকা কর অঞ্চল-১৮-এর কমিশনার বিষয়টি নজরে এনে তদন্তে পাঠান। পরে এনবিআরের গোয়েন্দারা অনিয়মের ঘটনা নিশ্চিত করেন।
সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী মাসুদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।
জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে, মেসেজেও সাড়া মেলেনি।
খবরওয়ালা/এমএজেড