যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে এক পলাতক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার একটি গ্রাম থেকে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হিজলডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে। জাহাঙ্গীর দুইটি পৃথক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। এর মধ্যে একটি মাদক সংশ্লিষ্ট মামলা এবং অপরটি পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত মামলা। উভয় মামলায় তার বিরুদ্ধে মোট দুই বছর তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ ছিল বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরের ভাই আলামিন ও লিটন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানান। মাইকে প্রচার করা হয় যে, পুলিশ সদস্যরা জাহাঙ্গীরকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে—এমন ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে জনতাকে উত্তেজিত করা হয়।
এরপর দ্রুতই আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা তিনজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করে এবং এক পর্যায়ে আটককৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। আহতরা হলেন কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুল্লাহ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পরে বিশেষ অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালেই ডুমুরিয়া উপজেলার একটি গ্রাম থেকে পুনরায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| ঘটনার স্থান |
হিজলডাঙ্গা গ্রাম, কেশবপুর |
| সময় |
বুধবার রাত |
| গ্রেফতার হওয়া আসামি |
জাহাঙ্গীর হোসেন |
| অভিযোগ |
দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক |
| হামলাকারীর সংখ্যা |
প্রায় ৫০–৬০ জন |
| আহত পুলিশ সদস্য |
৩ জন |
| পুনরায় গ্রেফতার |
বৃহস্পতিবার সকাল, ডুমুরিয়া |
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। মসজিদের মাইক ব্যবহার করে জনতাকে উসকে দেওয়ার অভিযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।