খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
রাজশাহী নগরীর হেতেম খাঁ জাদুঘর মোড় এলাকায় বুধবার (১৮ মার্চ) রাত পৌনে ৮টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল একটি মোটরসাইকেল কেনা-বেচা নিয়ে।
প্রাথমিকভাবে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুই নেতা এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটির সূত্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে একপক্ষের দোকান ঘর এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষে জড়িত পক্ষ দুটি হলো:
| গ্রুপ | নেতা | পদবী/স্থান |
|---|---|---|
| মো. মমিনুল ইসলাম মোনা গ্রুপ | মো. মমিনুল ইসলাম মোনা | দলীয় কর্মী, ৯ নং ওয়ার্ড |
| রাশেদুল হাসান পারভেজ গ্রুপ | রাশেদুল হাসান পারভেজ | ৯ নং ওয়ার্ড জামায়াত সাধারণ সম্পাদক |
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরে দেওয়া হবে—এমন শর্তকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষই ইট-পাটকেল ছুঁড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, “ঘটনার মূল কারণ মোটরসাইকেল কেনা-বেচা। এটি দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিরোধ। কখনোই এটি সাংগঠনিক সমস্যা নয়।”
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, “সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেল কেনা-বেচা নিয়ে দুই ব্যক্তি ও তাদের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ এসে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন সব কিছু স্বাভাবিক।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ ও সময় | ১৮ মার্চ, রাত পৌনে ৮টা |
| স্থান | হেতেম খাঁ জাদুঘর মোড়, রাজশাহী |
| সংঘর্ষের কারণ | মোটরসাইকেল কেনা-বেচা ও কাগজপত্র বিতর্ক |
| জড়িত গ্রুপ | মো. মমিনুল ইসলাম মোনা গ্রুপ, রাশেদুল হাসান পারভেজ গ্রুপ |
| ঘটনার ধরন | হাতাহাতি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর |
| প্রশাসনের পদক্ষেপ | স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, পরে আরএমপি পুলিশ পরিদর্শন |
| বর্তমান পরিস্থিতি | শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে |
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বা সংগঠনভিত্তিক সংঘর্ষের বদলে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা নগরীর জন্য হুমকিস্বরূপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।