খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রয়াত দুই বিশিষ্ট শিক্ষক অধ্যাপক শামসুন নাহার মোল্লা এবং অধ্যাপক এবিএম শাহজাহানের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষাজীবন, গবেষণা, শিক্ষকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অবদানের নানা দিক তুলে ধরে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলাভবনের প্রফেসর ইমেরিটাস এবিএম হোসেন গ্যালারিতে ইসলামের ইতিহাস সমিতির উদ্যোগে এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. মুনজুরুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসলামের ইতিহাস সমিতির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম. আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, অধ্যাপক ড. দীলশাদ আরা বুলু, অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ, অধ্যাপক ড. মু. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ড. শাহনাজ সুলতানা সোনিয়া, অধ্যাপক ড. যাহার-ই তাশনীম, অধ্যাপক ড. মো. আরিফুর রহমান এবং বিভাগের শিক্ষার্থী রণি বাবু।
বক্তারা বলেন, অধ্যাপক শামসুন নাহার মোল্লা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব অত্যন্ত আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নীতিনিষ্ঠ। তবে শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত আন্তরিক, স্নেহময় এবং অভিভাবকসুলভ। অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত ও একাডেমিক নানা বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়েছেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিভাগীয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক এবিএম শাহজাহানকে স্মরণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন প্রখর মেধাসম্পন্ন, জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত এবং গবেষণামুখী একজন শিক্ষক। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলেছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব তাঁকে সবার কাছে শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল।
বক্তারা আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি শুধু তার অবকাঠামো নয়, বরং তার শিক্ষক-গবেষকদের জ্ঞান, আদর্শ ও মূল্যবোধ। প্রয়াত এই দুই শিক্ষক তাঁদের কর্ম, চিন্তা এবং শিক্ষাদর্শের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁদের কর্মজীবনের নানা স্মৃতি, শিক্ষাদানের ধরন এবং মানবিক গুণাবলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ খালিদ সাইফুল্লাহ। পরে প্রয়াত দুই অধ্যাপকের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ প্রয়াত দুই অধ্যাপকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মরহুম শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। উপস্থিত সবাই তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।