খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে রাশিয়া বেসামরিক চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদেরকে ইউক্রেন যুদ্ধের সামনের সারিতে পাঠাচ্ছে। এ প্রতিবেদনে তিনজন বাংলাদেশি শ্রমিকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যারা রাশিয়ার জাল নিয়োগের ফাঁদে ফেলে পাঠানো হয়েছিল।
ভুক্তভোগী মাকসুদুর রহমান জানান, তিনি বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় এক শ্রম দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাত্রা করার জন্য রাজি হন। সেখানে তাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে (জ্যানিটর) কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মস্কো পৌঁছানোর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে দেখতে পান।
তিনজন বাংলাদেশি এপি-কে জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষার কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়, যা পরে সামরিক চুক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়। এরপর তাদের সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়, যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহতদের সরানো, এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মাকসুদুর রহমান বলেন, “আমি কাজ করতে অস্বীকার করলে একটি রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে বললেন, ‘তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনেছি।’” তারা ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ সামনের সারির কাজে বাধ্য হন, যার মধ্যে ছিল রসদ বহন, আহত সেনাদের সরানো, এবং নিহতদের দেহ উদ্ধার।
নিচের টেবিলে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| নাম | বাধ্যতামূলক কাজ | হুমকি ও শাস্তি | পালানোর সময়কাল |
|---|---|---|---|
| মাকসুদুর রহমান | সামনের সারিতে যুদ্ধ, রসদ বহন | ১০ বছরের কারাদণ্ড, মারধর | ৭ মাস |
| অজ্ঞাত ২য় ব্যক্তি | আহতদের সরানো, দেহ উদ্ধার | শারীরিকভাবে হুমকি ও প্রহর | অজানা |
| অজ্ঞাত ৩য় ব্যক্তি | ড্রোন অপারেশন ও অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ | শারীরিক নির্যাতন ও আটক | অজানা |
এপি যে নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে, তাতে রয়েছে ভ্রমণপত্র, সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশি প্রতিবেদন এবং যুদ্ধের সময় প্রাপ্ত আঘাতের ছবি। এসব নথি প্রমাণ দেয় যে তারা বাধ্য হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের অংশগ্রহণ করেছেন।
কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে এপি জানিয়েছে, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে শত শত বাংলাদেশিকে দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকার কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া একই কৌশল ব্যবহার করে ভারত, নেপাল ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর ফলে অভিবাসী শ্রমিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শোষণ ও ব্যবহার নতুনভাবে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।