খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১২ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কলামিস্ট ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, ড. ইউনূস এখন পর্যন্ত যত সব ভ্রমণে যাচ্ছেন, সব রাষ্ট্রের টাকাতেই যাচ্ছেন। ভ্রমণবিলাসে আছেন তিনি। ব্রিটিশ চ্যারিটি পুরস্কার আনতে এত বড় লটবহর নিয়ে তার যাওয়ার কেন প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, আমরা জানি না। এগুলো নিয়ে কথা বলাটা এখন খুবই রিস্কি।
কারণ তার অবিবেচক কিছু টোকাই সমর্থক সবাইকে বলব না, কিছু টোকাই- আবার এত অন্ধ আচরণ করছে, যে কাউকে স্বৈরাচারের দোসর ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছে। এটা হাসিনার আমল থেকেও বড় ভয়াবহ হয়ে গেছে।
বুধবার (১১ জুন) রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এসব কথা বলেন তিনি।
আনিস আলমগীর বলেন, ড. ইউনূস ২০২৬ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে নির্বাচনের কথা বলেছে।
আমরা এর মধ্যে সবাই জেনে গেছি এই কথাটা। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা যাচ্ছে না। নির্বাচনের সময় নিয়ে যে অনিশ্চয়তা, সেটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। এটা ডিসেম্বরে হবে, না এপ্রিলে- তা স্পষ্ট নয় এখনো।
এ অনিশ্চয়তার মধ্যে আগামী শুক্রবার (১৩ জুন) বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করবেন। আপনারা জানেন যে তারেক রহমান লন্ডনে আছেন দীর্ঘদিন থেকে। তো সরকার এবং বিএনপির তরফ থেকে এটা জানানো হয়েছে যে ব্রিটিশ রাজার একটি চ্যারিটি পুরস্কার নিতে ড. ইউনূস আর লন্ডন সফর করছেন। ৯ জুন তিনি দেশ ছেড়ে গিয়েছেন এবং সেখানে ১৩ তারিখ পর্যন্ত পর্যন্ত চারদিন থাকবেন। ঢাকা থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে প্রচার করা হয়েছিল।
কিন্তু এখন আমরা শুনতে পাচ্ছি যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তাকে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না এবং ড. ইউনূসের প্রেস টিম বলছে যে তিনি (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী) কানাডায় আছেন। অথচ তাকে দেখা যাচ্ছে যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দিচ্ছেন। এত বড় একজন সেলিব্রিটি ড. ইউনূস । তার জন্য এই ধরনের প্রচার করে মিটিং না হওয়াটা লজ্জাজনক বটে। এখন তিনি যেহেতু সরকার প্রধান আছেন তাহলে সেটা আমাদের জন্যও লজ্জার বিষয়। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত এই সাক্ষাৎ হয় কি না। এর মধ্যে আপনারা জানেন, ড. ইউনূস এই গত ১০ মাসে এই সফরটাসহ ১১-১২টি বিদেশ সফরে গেছেন। সবগুলো সরকারি পয়সায়। এর মধ্যে একমাত্র চীন সম্পর্ক ছিল দ্বিপাক্ষিক।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যে সময়সূচি দিয়েছিলেন তা তারেক রহমানের পছন্দ হয়নি। তিনি চেয়েছিলেন যে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হোক। শুধু তাই নয়, ইউনুস সভ্যতার মাত্রা ছাড়া বক্তব্য দিয়েছেন- এমন অভিযোগও করা হয়েছিল বিএনপির তরফ থেকে বিএনপি যে বিবৃতি দিয়েছিল। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার আমরা জানি যে শুরু থেকেই বলে আসছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনটা হয়ে যাক। কারণ সেনাবাহিনী বাহিরে দীর্ঘদিন থাকা ভালো নয় এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি ডিসেম্বরে নির্বাচন করে। কিন্তু ইউনূস এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন। তিনি সেনাবাহিনী প্রধান কিংবা তারেক রহমান- কারো কথাই শোনেননি। তারেক রহমান বলেছিলেন যে ডিসেম্বরের মধ্যে ৩১-র মধ্যেই হতে হবে। ড. ইউনূস বলেছেন, জুনের মধ্যেই ইলেকশন হবে। ৩০-মধ্যে ইলেকশন হবে। ওনি এখন এদিকে তারেক রহমান কিংবা সেনাপ্রধান কারো বক্তব্যে না গিয়ে ইলেকশনকে ঠেলে দিয়েছেন এপ্রিল পর্যন্ত।
ভিডিওর একপর্যায়ে এই বিশিষ্ট সাংবাদিক বলেন, লন্ডনে ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, সেখানে আওয়ামী লীগের বড় সড় বিক্ষোভ হয়েছে এবং সেখানে তার হোটেলের সামনে আওয়ামী লীগ রীতিমতো অবস্থান নিচ্ছে এবং ঢাকার বইমেলায় শেখ হাসিনার ছবি দিয়ে যে ডাস্টবিন তৈরি করা হয়েছিল, এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এবার ইউনূস এবং তার প্রেস সচিব শফিকের ছবি দিয়ে ডাস্টবিন বানানো হয়েছে এবং তা নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হচ্ছে যে হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে শফিককে গালাগালি করতেও আমি দেখলাম একটা ভিডিওতে এবং শফিক তখন হেঁটে যাচ্ছিল। তাকে ধরধর করে গালাগালি করছিল। ইউনূসের কুষ্পত্তলিকা বানিয়ে গলায় স্যান্ডেল ঝুলিয়ে দিয়েছে। তাকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে দেশ ছাড়তে বলেছে। এগুলো খুবই দুঃখজনক ঘটনা যে আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে মানে এই সংস্কৃতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। আমরা আমাদের এই বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হতে পারিনি। আমরা আমাদের যে ব্যক্তিগত অভ্যন্তরীণ যে বিদ্বেষ এবং হানাহানি এগুলো আমরা বিদেশে নিয়ে যেতে চাই। বিদেশের মাটিতেও আমরা প্রদর্শন করি। তো জাতি হিসেবে আমাদের জন্য তখন এটা খুবই বেদনার আর কি।
এ কলামিস্ট আরো বলেন, শেখ হাসিনার ভাগ্নি যে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী এবং ডক্টর ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউনূসের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমি বুঝি না যে টিউলিপের সঙ্গে যদি ড. ইউনূসের বসতে অসুবিধা হয়, এখানে কোনো যৌক্তিকতা থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু ইউনূসের সঙ্গে যে দুদকের কিছু কর্মকর্তা আছেন, সরকারের আরো প্রতিনিধি আছেন তাদের টিউলিপের সঙ্গে বৈঠক করতে সমস্যা কোথায়? টিউলিপ তো দণ্ডিত ব্যক্তি না যে তার সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। আসামির সঙ্গে দেখা করা এমন কোন ঘটনা হয়নি। কারণ সে তো শুধু এখানে আসামি তা না। সে তো একজন ব্রিটিশ এমপি। তাই না? টিউলিপ ইতোমধ্যে কিন্তু ব্রিটিশ মিডিয়াতে প্রচার করছেন যে তিনি নির্দোষ, তার বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে না এবং সরকারের কোন নোটিশ তিনি পাননি। শুধু তার বিরুদ্ধে এবং তার খালার বিরুদ্ধে বদনাম করে বেড়াচ্ছে। এগুলো উনি তার পক্ষ থেকে বলতে পারেন। তার সত্যতা নিয়ে তো অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি যত সাধু তিনি প্রচার করছেন, তত সাধু তো বাংলাদেশের মানুষ তাকে মনে করে না। কিন্তু যাই হোক আমি মনে করি, ডক্টর ইউনুসের কাছে যদি প্রমাণ থাকে, সরকারের কাছে যদি প্রমাণ থাকে- তার দুর্নীতির ফিরিস্তি শুনিয়ে তার ব্যাখ্যা তো ক্লিয়ার করতে পারেন, তাই না? সরকারের কাছে যদি তথ্য থাকে, তাহলে স্বচ্ছতা দেখানোর ভয় কীসের? তারা কি ধরে নিয়েছে যে বাংলাদেশের আদালতে টিউলিপের বিচার হবে? টিউলিপ এখানে হাজিরা দেবে এবং এই যে আদালতে যে মব সংস্কৃতি চালু করেছে, সেখানে টিউলিপ ডিম খাবে!
আনিস আলমগীর আরো বলেন, আমরা আসলে কাজের কাজ কি সেটা দেখতে চাই। আমরা কাজের কাজ কিছু দেখতেছি না। আমরা কাজের কাজ দেখতেছি শুধু মব সংস্কৃতি এবং জঙ্গিপনা বেড়ে তোলা, যেখানে-সেখানে মানুষকে হামলা করা- এগুলোই চলতেছে। যার যা ইচ্ছা সেভাবেই চলতেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। তো সবশেষে আমি বলব, যদি সরকার এবং বিএনপি নির্বাচন নিয়ে একটা সমঝোতায় আসে, কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনের অংশ নিতে না পারে, তাহলে তাদের ভূমিকা কি হবে? সেটা কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় একটা প্রশ্ন যে আমরা আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ।
সবশেষে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়াটা কতটা নিরাপদ হবে? সে প্রশ্ন কিন্তু এখনো রয়ে যাচ্ছে। ড. ইউনূস ব্রিটিশ মিডিয়ার সঙ্গে সেখানে বক্তৃতাবাজিতে আজকেও দেখলাম যে বলছেন, ১৭ বছরে এরকম কোনো নির্বাচন হয়নি, সেরকম নির্বাচন তিনি উপহার দেবেনি। একটা বড় একটা অংশকে ভোট থেকে বাইরে রেখে তিনি কীভাবে আশা করেন যে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন গত ১৭ বছরে তিনি যেটা দেখে নাই সেরকম একটা নির্বাচন দেবেন! তাহলে এটা ১৮ আর ২৪-এর থেকে কী পার্থক্য থাকবে? ২০১৪ থেকে কী পার্থক্য থাকবে? আমাদের কিন্তু মাথায় এখনো কিছু ধরে না। নিরাপত্তা এবং আগুনের আতঙ্কে মোড়ানো সেই দিনগুলো আবার আমাদের মধ্যে ফেরত আসছে কি না আমরা সেই চিন্তায় আছি। আওয়ামী লীগ কি সেই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে যাবে ইলেকশনের সময় না কি শান্তিপূর্ণভাবে যে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচন পরবর্তী একটা স্ট্র্যাটেজি তারা ঠিক করবে তাদের দলের জন্য সেগুলো কিন্তু এখনো দেখার বিষয় আছে সেই পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি দেখি কি হয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড