রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেট দল ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে। মাত্র ১৫ বছর ২২৩ দিনের কিশোরী ওপেনার ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে অভিষেক ম্যাচেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করে নজির সৃষ্টি করেছেন। এটি তার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল এবং মাত্র ৫৯ বলেই তিনি ১১১ রান করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেছেন।
অভিষেক ম্যাচ ও ইনিংসের বিশদ
শনিবার (২১ মার্চ) নাইজেরিয়ার লাগোসে ঘানার বিপক্ষে খেলায় উতাগুশিমানিন্দে ৬৫ বলে ১১১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিনি ১৭টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রুয়ান্ডাকে ১২২ রানের বিশাল জয় এনে দেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি কেবল বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরিয়ানই হন না, পাশাপাশি অভিষেক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও নিজের দখলে আনেন।
| তথ্য |
বিবরণ |
| ক্রিকেটার |
ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে |
| বয়স |
১৫ বছর ২২৩ দিন |
| দেশ |
রুয়ান্ডা |
| ইনিংস |
১১১* রান |
| বল |
৬৫ |
| বাউন্ডারি |
১৭টি |
| ম্যাচ |
রুয়ান্ডা বনাম ঘানা |
| স্থান |
লাগোস, নাইজেরিয়া |
| জয় |
রুয়ান্ডা ১২২ রানে জয়ী |
| রেকর্ড |
সর্বকনিষ্ঠ নারী টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিয়ান, অভিষেক ম্যাচে সর্বোচ্চ রান |
আন্তর্জাতিক রেকর্ডের প্রেক্ষাপট
নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার আগে এই সম্মান ছিল উগান্ডার প্রসকোভিয়া আলাকোর কাছে। ২০১৯ সালে মালির বিপক্ষে ১৬ বছর ২৩৩ দিনের বয়সে তিনি সেঞ্চুরি করেছিলেন। পুরুষ ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককিওন, যার বয়স ১৮ বছর ২৮০ দিন। অর্থাৎ নারী-পুরুষ মিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান এখন ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে।
তাছাড়া, নারী টি-টুয়েন্টিতে অভিষেকে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন তিনি। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কারেন রোলটন ৯৬ রান করেছিলেন। প্রায় দুই দশক পর এই রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হল।
ক্রিকেটারের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে উতাগুশিমানিন্দে বিবিসি স্পোর্টসকে বলেন,
“এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। ১৫ বছর বয়সে অভিষেকেই এমন কিছু পাব ভাবিনি। এই অর্জন আমার কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের ফল।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই কিশোরী ওপেনারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেটের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতা দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
ফ্যানির এই সেঞ্চুরি শুধু একটি ব্যক্তিগত কীর্তি নয়, এটি রুয়ান্ডার নারী ক্রিকেটের উত্থান এবং আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে আফ্রিকার প্রতিভার প্রমাণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।