খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি স্থানীয় সালিস বৈঠক চলাকালীন প্রতিপক্ষের হামলায় মোজাম্মেল হক নামের এক বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার বিরাবো বাজারে এই সহিংস ঘটনা ঘটে। আহত মোজাম্মেল হক রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই দিন যুবদল নেতা কাউসার আহমেদ ও তাঁর অনুসারীরা দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় মহড়া দেন। একপর্যায়ে তাঁরা কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হামলাকারীদের দলে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ জন সন্ত্রাসী ছিল, যাদের কাছে রামদা, ছেনি, ছুরি, পাইপ ও লোহার রডের মতো মারাত্মক দেশি অস্ত্র ছিল। যুবদল কার্যালয়ে হামলা চলাকালীন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ৪ থেকে ৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেই সময় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
১৭ মে’র ওই সহিংসতার বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে গতকাল সোমবার রাতে বিরাবো বাজারে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষই নিজ নিজ বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরছিলেন। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে কাউসার আহমেদের সমর্থকেরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং সালিস বৈঠকেই মোজাম্মেল হকের ওপর হামলা চালান।
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোজাম্মেল হককে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদটির মূল ফ্যাক্ট এবং ঘটনার ক্রমিক বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| আহত ব্যক্তির পরিচয় | মোজাম্মেল হক (সাধারণ সম্পাদক, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, কাঞ্চন পৌরসভা) |
| মূল অভিযুক্ত পক্ষ | যুবদল নেতা কাউসার আহমেদ ও তাঁর সমর্থকবৃন্দ |
| প্রাথমিক ঘটনা ও তারিখ | ১৭ মে; যুবদল কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ |
| সালিস বৈঠকের স্থান ও সময় | বিরাবো বাজার, রূপগঞ্জ; সোমবার রাত |
| ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র | রামদা, ছেনি, ছুরি, পাইপ ও লোহার রড |
| চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহ | রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা |
| আইনি বর্তমান অবস্থা | রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের; তদন্ত চলমান |
এই নৃশংস হামলার ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
তিনি আরও জানান, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হকের ওপর হামলার এই ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।