খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। ইরান-ইরাকের বিভিন্ন শহরে টানা ছয় দিন ধরে চলা এই বিদায় প্রক্রিয়া এবং শোক মিছিলে অংশ নিয়েছেন ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। ইরান সরকারের দাবি, এটি মানব ইতিহাসের সর্বকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম এবং জানাজা।
বিদায়ের এই বিশাল আনুষ্ঠানিকতা কেবল একটি নির্দিষ্ট শহরে সীমাবদ্ধ ছিল না। তেহরান, কোম, মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালা—এই পাঁচটি ঐতিহাসিক শহরে পর্যায়ক্রমে তার দাফন প্রক্রিয়া ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কেবল নাজাফ এবং কারবালা শহরের কর্মসূচিতেই প্রায় এক কোটি মানুষ শামিল হয়েছিলেন। এই বিশাল উপস্থিতির সংখ্যাটি কেবল মুখের কথা বা আনুমানিক হিসাব নয়; প্রযুক্তিগত তথ্য, যাতায়াতের রেকর্ড এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে স্বাধীন বিভিন্ন সূত্র এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকস্মিক হামলায় সপরিবারে প্রাণ হারান এই শীর্ষ নেতা। এরপর দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে গত শুক্রবার থেকে তার শেষ বিদায়ের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। খামেনির এই জানাজায় ইমামতি করেন ১০১ বছর বয়সি একজন প্রবীণ ইমাম, যা সাধারণ মানুষের মাঝে আলাদা আবেগ তৈরি করে।
এই জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া ফেলেছে। এতে অংশ নিতে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ৯০টিরও বেশি দেশের পণ্ডিত ও প্রতিনিধি দল ইরানে আসেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাধারণ মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে, ভক্ত ও অনুসারীদের মাঝে তার প্রভাব কতটা গভীর ছিল। টানা ছয় দিন ধরে লাখ লাখ মানুষের এই পদযাত্রা কোনো ধরনের বড় বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সম্পন্ন করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা তারা সফলভাবেই মোকাবিলা করেছে।