খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম ২৬ দিনেই দেশে ২৭১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা বিনিময় হার হিসেবে)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের (২০২৫) এপ্রিল মাসের প্রথম ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) এক দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৬৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি মাসের প্রতিদিনের গড় হিসাব করলে দেখা যায়, দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স বৈধ পথে দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে (১ জুলাই ২০২৫) ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৮৯২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪০৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ অর্থবছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে ২০ দশমিক ২০ শতাংশের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
নিচে গত দুই বছরের রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি সংক্ষিপ্ত তুলনা দেওয়া হলো:
| সময়কাল (জুলাই – ২৬ এপ্রিল) | রেমিট্যান্সের পরিমাণ (ডলারে) | প্রবৃদ্ধির হার |
| অর্থবছরের বর্তমান সময় (২০২৫-২৬) | ২,৮৯২ কোটি ৬০ লাখ ডলার | ২০.২০% |
| অর্থবছরের পূর্ববর্তী সময় (২০২৪-২৫) | ২,৪০৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার | – |
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ একটি অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করেছে। মার্চ মাসে দেশে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের একক কোনো মাসে সংগৃহীত সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এপ্রিল মাসেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং মাসের শেষ কয়েক দিনে এই প্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রণোদনা এই ইতিবাচক ধারার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসীরা এখন হুন্ডির মতো ঝুঁকিপূর্ণ মাধ্যমের পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে অধিক উৎসাহিত হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ব্যাংকিং খাতে ডলারের তারল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও এই রেমিট্যান্স প্রবাহ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজতর করার ফলে সামনের দিনগুলোতে এই প্রবাহ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট বা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।