খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে চৈত্র ১৪৩২ | ২০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর তুরাগ এলাকায় ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা আক্তার (২১) গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মুক্তা আক্তার অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। তুরাগের মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তারা ব্যাগ ধরে জোরে টান দিলে মুক্তা চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আরও একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর পৌনে ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী লিমন হোসেন বলেন,
“আমার স্ত্রী সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন। পথে ছিনতাইকারীরা ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।”
তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
| ধাপ | স্থান | অবস্থা |
|---|---|---|
| প্রথম উদ্ধার | স্থানীয় এলাকা | গুরুতর আহত |
| প্রাথমিক চিকিৎসা | নিকটস্থ বেসরকারি হাসপাতাল | অবস্থার অবনতি |
| দ্বিতীয় ধাপ | অন্য একটি হাসপাতাল | উন্নতি হয়নি |
| চূড়ান্ত চিকিৎসা | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | দুপুর ১:৪৫-এ মৃত্যু ঘোষণা |
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলায়, জনবহুল এলাকায় এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, তবে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও গণপরিবহন চলাচলের রুটে পর্যাপ্ত নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো নগরবাসীর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে যখন মানুষের চলাচল বাড়ছে, তখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।