খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে ১১ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নে এই অপরাধমূলক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত যুবক মামুনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির স্থায়ী নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায়। সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সে রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঘটনার দিন দুপুরে সুযোগ বুঝে প্রতিবেশী যুবক মামুন শিশুটিকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মামুন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রামগতি থানা পুলিশ সেই রাতেই একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং অভিযুক্ত মামুনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটির নানি বাদী হয়ে রামগতি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মামুনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া, ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য সরকারি হাসপাতালে তার ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
নিচে ঘটনার সার্বিক বিবরণ ও আইনগত পদক্ষেপের প্রধান তথ্যগুলো টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| ভুক্তভোগী | ১১ বছর বয়সী শিশু |
| ভুক্তভোগীর স্থায়ী ঠিকানা | রামগঞ্জ উপজেলা, লক্ষ্মীপুর |
| ঘটনার স্থান | চরবাদাম ইউনিয়ন, রামগতি উপজেলা, লক্ষ্মীপুর |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | মামুন (প্রতিবেশী) |
| মামলার বাদী | ভুক্তভোগী শিশুর নানি |
| আইনি পদক্ষেপ | অভিযুক্ত গ্রেফতার এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ |
| বর্তমান অবস্থা | ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) প্রক্রিয়াধীন |
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটির মা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, তার কন্যা সন্তানটি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে নানার বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটাতে এসেছিল। কিন্তু প্রতিবেশী মামুনের এই পাশবিক আচরণের কারণে শিশুটির জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একজন মা হিসেবে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।