খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লক্ষ্মীপুর জেলা সদর উপজেলার বটতলী-দত্তপাড়া সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেলা ১১টার দিকে বটতলী এলাকায় জড়ো হয়ে তাঁরা ঝাড়ু হাতে মিছিল শুরু করেন এবং সড়ক সংস্কারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, চাকরিজীবী ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অবরোধ চলাকালে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক মাত্র দুই মাস আগে সংস্কার করা বটতলী-দত্তপাড়া সড়ক ইতোমধ্যে দেবে গেছে, কার্পেটিং ফেটে নানা স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারের পরপরই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা দেড়টার দিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি কাজের মান যাচাই, প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির সংস্কারকাজ গত বছরের নভেম্বর মাসে শেষ হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের কার্পেটিং কাজে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিবুর ট্রেডার্স।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সড়কের দৈর্ঘ্য | প্রায় ২ কিলোমিটার |
| কাজের ধরন | কার্পেটিং ও সংস্কার |
| বরাদ্দ অর্থ | ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা |
| বাস্তবায়নকারী সংস্থা | এলজিইডি |
| ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান | মজিবুর ট্রেডার্স |
| কাজ সম্পন্নের সময় | নভেম্বর (গত বছর) |
বিক্ষোভকারী মো. ফয়সাল মিয়া বলেন, “সড়ক সংস্কারের নামে জনগণের করের টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশেই এমন নিম্নমানের কাজ হয়েছে। আমরা একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।” অন্য বিক্ষোভকারীরা জানান, কাজ চলাকালে যথাযথ তদারকি ছিল না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের সরেজমিনে উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ স্থগিত রাখা হয়েছে। সড়কটির প্রকৃত অবস্থা যাচাই ও পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর সংস্কার ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।