খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৭ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক টেলিভিশন আলোচনায় সরকারঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অনিয়ম ও সম্পদ স্থানান্তরের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সরাসরি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সংক্রান্ত নানা অনিয়ম চলমান রয়েছে।
জুলকারনাইন সায়েরের অভিযোগ, একজন উপদেষ্টার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক ও তার ছেলে প্রায় ৪০০–৫০০ কোটি টাকার একটি ফ্যাক্টরি নিজেদের নামে স্থানান্তর করেছেন। তিনি বলেন, “উক্ত ফ্যাক্টরিতে প্রায় ৬০০ কর্মী কাজ করেন এবং এর পূর্ববর্তী মালিক ছিলেন নসরুল আহমেদ দিপু ও তার ভাই ইনতেখাবুল হামিদ। এই হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দলিল পাওয়া যায়নি। এটি স্পষ্টতই বিশ্বাসঘাতকতার উদাহরণ।”
জুলকারনাইন আরও উল্লেখ করেন, আরেক উপদেষ্টার ভাইয়ের মোতালেব প্লাজায় দোকান কেনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, যদিও এর পেছনে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার হাতে কিছু ফোন কল রেকর্ড রয়েছে, যেখানে হোটেল কক্ষে ঘুষ চাওয়া এবং নো অবজেকশন (No Ha) সার্টিফিকেটের বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের আলাপ হয়েছে।
তিনি জানান, থাকরাল (Thakral) নামে একটি ভারতীয় ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি আগের সরকারের আমল থেকে একের পর এক সরকারি প্রকল্প পাচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,“একটি ৪.৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে প্রস্তাব করা হয় এবং ২০২৫ সালের মে মাসে ফয়েজ তায়েব এটি অনুমোদন করেন। প্রকল্পটি ‘এইচ (H) প্রকল্প’-এর অধীনে সম্পাদিত হয়।”
জুলকারনাইন সায়েদ বেল্লাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বেল্লাল হোসেন ছিলেন সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা, যিনি ৫ কোটি টাকার সম্পদ গোপনের অভিযোগে দুদকের তদন্তাধীন ছিলেন। উচ্চ আদালতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নিম্ন আদালত থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে চলে যান।
তিনি বলেন,“বর্তমানে তিনি একজন ওএসডি (Officer on Special Duty) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বে তাকে কাস্টমস ট্রাইব্যুনালের প্রধান করা হয়েছিল, যা দায়িত্বের চরম অপব্যবহার। তিনি এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত করা উচিত ছিল।”
নির্বাচন নিয়ে জুলকারনাইন বলেন,“আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে বোঝা যাবে নির্বাচন সময়মতো হবে কি না। ভোটারদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতে হবে। নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের শুরুতে নির্বাচন হলে ১২ কোটি ভোটারের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দরকার।’
খবরওয়ালা/এমএজেড