কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
নিহত শিশুরা হলো বরইয়া গ্রামের বাহরাইনপ্রবাসী মো. সোহেলের চার বছর বয়সী ছেলে আবদুর রহমান এবং একই গ্রামের আরেক বাহরাইনপ্রবাসী জুয়েলের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. জোবায়ের। দুই শিশু একই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তাদের মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও শোকাহত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে দুই শিশু বাড়ির পাশেই একসঙ্গে খেলাধুলা করছিল। খেলার একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা বাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। আশপাশে লোকজন থাকলেও ঠিক কখন বা কীভাবে তারা পানিতে পড়ে, তা কেউ বুঝতে পারেননি।
কিছুক্ষণ পর পুকুরের পানিতে দুই শিশুকে ভাসতে দেখেন বাড়ির নারীরা। এ দৃশ্য দেখে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁরা পুকুরে নেমে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর শিশু দুটিকে দ্রুত বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই শিশুকে হারিয়ে স্বজনেরা ভেঙে পড়েন। আনন্দময় শৈশবের শুরুতেই এমন করুণ পরিণতি পরিবার দুটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই শিশুর বাবা মো. সোহেল ও জুয়েল—দুজনই বাহরাইনে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রবাসে কর্মরত দুই পরিবারের সন্তানদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গভীর বেদনা। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও শোকাহত পরিবার দুটির খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেন।
এদিকে, শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা জলাশয় থাকলে ছোট শিশুদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে চার-পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা বিপদের ঝুঁকি বুঝতে পারে না। তাই তাদের খেলাধুলার সময় প্রাপ্তবয়স্ক কারও নজরদারি নিশ্চিত করা এবং পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান দুই শিশুর পুকুরের পানিতে পড়ে মৃত্যুর বিষয়টি জানার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে দুই শিশু পুকুরে পড়ে যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একই পরিবারের দুই শিশুর একসঙ্গে চলে যাওয়া বরইয়া গ্রামের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। যে বাড়িতে শিশুদের হাসি-খেলায় মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন স্বজনদের কান্না আর শোকের ভার। দুই পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি দীর্ঘদিন স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে বেদনার হয়ে থাকবে।


