খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় অঙ্গরাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
যদিও গেল ১৫ বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে এটি প্রথম কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য কারাগারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু ঘোষণা করা হয়েছে। আসামির নাম জেসি হফম্যান জুনিয়র (৪৬)।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯ মিনিট ধরে নাইট্রোজেন গ্যাস প্রবাহিত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা এটিকে নিখুঁত মৃত্যুদণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মৃত্যুর সময় হফম্যানের শরীরে অনিচ্ছাকৃত ঝাঁকুনি দেখা গেছে। এ সময়ে তার শরীরে খিঁচুনিও হয়েছে।’
তবে এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে অসাধারণ কিছু দেখছেন না বলে জানিয়েছেন আরও দুই প্রত্যক্ষদর্শী। এটিকে আবেগহীন ও পদ্ধতিগত মৃত্যুদণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছেন ডব্লিউডিএসইউয়ের প্রতিবেদক গিনা সোয়ানসন।
তিনি বলেন, ‘এখানে এমন কিছু ঘটেনি, যা দেখে তার মাথায় চিন্তা আসবে—এটা কী সঠিক ছিল? এটা কী এভাবেই হওয়ার কথা ছিল?’
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কক্ষে বসে শেষ ইচ্ছার কথা জানাতে অস্বীকার করেছেন হফম্যান। শেষ খাবারও খেতে চাননি তিনি।
নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ছিল এটি। বাকি চারবার এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং সবগুলোই হয়েছে আলবামায়।
১৯৯৬ সালে নিউ অরলিন্সে ২৮ বছর বয়সী মলি ইলিওট নামের এক বিজ্ঞাপন কর্মকর্তাকে হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন হফম্যান। এই অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তার জীবনের অধিকাংশ সময়ই দক্ষিণপূর্ব লুইজিয়ানার একটি কারাগারে কাটাতে হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডও সেখানে কার্যকর করা হয়েছে।
হফম্যানের আইনজীবী যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে নাইট্রোজেন গ্যাস প্রয়োগের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হবেন, যা সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর লঙ্ঘন ঘটবে। কারণ এতে নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তার এই যুক্তি ধোপে টেকেনি।
২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ সালে আলাবামায় কেনেথ স্মিথের মৃত্যুদণ্ড ছিল বিশ্বের প্রথম নাইট্রোজেন ইনহেলেশনের মাধ্যমে, তখন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে রাজ্যে আরো তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ২৩টিতে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হয়েছে। অন্য ছয়টি রাজ্যে (অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, ওহিও, ওরেগন, পেনসিলভানিয়া এবং টেনেসি) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে।
সূত্র: এপি
খবরওয়ালা/আরডি