খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা অর্থ এখন ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়াকে উল্লেখ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেকেই নিরাপদ আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসছেন। ফলে বাড়িতে সঞ্চিত নগদ টাকা, যা আগে বিভিন্ন কারণে ব্যাংকের বাইরে রাখা হতো, এখন ব্যাংকে জমা হচ্ছে। এতে উচ্চ অঙ্কের জমা বাড়ছে এবং কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনেও এই প্রবণতার প্রতিফলন রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকে কোটি টাকা বা তারও বেশি জমা রয়েছে—এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব সংখ্যা এক লাখ ২৮ হাজার ছাড়িয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম চাপে রয়েছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে বহু পরিবার আগের সঞ্চয় ভেঙে ফেলছে, ফলে ছোট অঙ্কের আমানত কমছে। বিপরীতে ধনী শ্রেণির আয় বেড়েছে, আর নতুন বড় অঙ্কের আমানতের বেশিরভাগ অংশই সেই বিত্তশালী ব্যক্তি ও বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাবেই জমা হচ্ছে। তাদের ভাষায়, অর্থনৈতিক চাপ যতই থাকুক, সম্পদশালীদের আয়-সম্পদ বৃদ্ধির প্রবণতা থেমে নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা মানেই যে হিসাবধারী ব্যক্তিগতভাবে কোটিপতি—তা নয়। কারণ এই তালিকায় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সরকারি বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাছাড়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতটি হিসাব খুলতে পারবে তার কোনো সীমা না থাকায় একজনের একাধিক কোটিপতি হিসাব থাকাটাও স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টি। চলতি বছরের জুন শেষে এই সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। মাত্র তিন মাসে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি—যা ব্যাংকিং খাতে গ্রাহক বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি।
জুন প্রান্তিকে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি, আর সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। তিন মাসে বেড়েছে ৭৩৪টি কোটিপতি হিসাব।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন মনে করেন, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির কারণে মানুষ এখন আরও বেশি আস্থা নিয়ে আমানত রাখছেন। পাশাপাশি আর্থিক প্রবাহ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসায় অর্থনীতিতে টাকার গতি বাড়ছে—যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।