খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাতের মধ্যে পৃথক দুটি ঘটনায় জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনী ইউনিফিল-এর তিনজন ইন্দোনেশীয় সদস্য নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল-এর মধ্যে পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর এটি শান্তিরক্ষীদের ওপর প্রথম প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার (৩০ মার্চ) দক্ষিণ লেবাননের বানি হাইয়ান এলাকায় শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে একটি অজ্ঞাত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে গাড়িতে থাকা দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন রোববার গভীর রাতে আদচিত আল-কুসাইর গ্রামের কাছে শান্তিরক্ষীদের একটি অবস্থানের পাশেই সরাসরি কামানের গোলা আঘাত হানে, যাতে আরও একজন ইন্দোনেশীয় সদস্য প্রাণ হারান।
UNIFIL-এর মুখপাত্র ক্যান্ডিস আরডিয়েল জানিয়েছেন, দুটি ঘটনার বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শান্তিরক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় তাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেটের আওতায় হলেও বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইন্দোনেশিয়া সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির চরম লঙ্ঘন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো Sugiono জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres-এর সঙ্গে আলোচনার পর এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের আহ্বান করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। একইসঙ্গে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা প্রধান Jean-Pierre Lacroix স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শান্তিরক্ষীরা কোনোভাবেই যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না এবং এ ধরনের ঘটনা অগ্রহণযোগ্য।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুটি ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এটি হিজবুল্লাহর হামলা নাকি তাদের নিজস্ব সামরিক অভিযানের ফল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। লিটানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান ও বিমান হামলা জোরদার হওয়ায় সাধারণ নাগরিক ও শান্তিরক্ষীদের চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
নিচে ঘটনার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| তারিখ | স্থান | ঘটনা | নিহত | আহত | সংশ্লিষ্ট পক্ষ |
|---|---|---|---|---|---|
| ২৯ মার্চ (রাত) | আদচিত আল-কুসাইর | কামানের গোলা আঘাত | ১ জন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী | নেই | সংঘাতপূর্ণ এলাকা |
| ৩০ মার্চ | বানি হাইয়ান | গাড়িতে বিস্ফোরণ | ২ জন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী | ২ জন গুরুতর | অজ্ঞাত বিস্ফোরণ |
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্তিরক্ষীদের ওপর এ ধরনের হামলা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। আপাতত UNIFIL তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।