খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে এক দম্পতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মো. কবির হোসেন (৩০) ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত কবির হোসেন ওই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে এবং পেশায় একজন সাধারণ জেলে ছিলেন। এই দম্পতির ঘরে রয়েছে পাঁচ বছর ও মাত্র দুই মাস বয়সী দুটি কন্যাসন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা জানালা দিয়ে উঁকি মারেন। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। ছোট একটি কাগজে হাতে লেখা ওই চিরকুটে নিজেদের এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি। সেখানে লেখা ছিল, তারা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে এই দম্পতির মধ্যে মারাত্মক পারিবারিক ও আর্থিক সংকট চলছিল। কবির হোসেন পেশায় জেলে হওয়ায় বৈরী আবহাওয়ার এই সময়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এর ওপর যুক্ত হয়েছিল পারিবারিক টানাপোড়েন ও কলহ। এই মানসিক অশান্তির জেরেই হয়তো তারা এমন হৃদয়বিদারক পথ বেছে নিয়েছেন।
এদিকে, বাবা-মায়ের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাদের দুটি শিশু সন্তান এখন পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। মাত্র দুই মাস বয়সী অবুঝ শিশুটিকে নিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে এক করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুরো এলাকায় এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘর থেকে একটি চিরকুট পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রাথমিক আলামত দেখে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।