রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন মহাসড়ক এলাকায় প্রবাসী স্বজনের পাঠানো সোনা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদল সম্পাদক ও বিএনপি নেতাসমেত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিমানবন্দর থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এবং রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পৃথক দুইটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার বাসিন্দা মো. সুমনের দায়ের করা নির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিদেশফেরত এক প্রবাসীর স্বজনের কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ছিনতাই করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে উপকমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ স্পষ্ট ভাষায় জানান, অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। আসামিরা যে রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সঙ্গেই সম্পৃক্ত থাকুন না কেন, তাঁদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের দৃষ্টিতে তাঁরা কেবলই অপরাধী এবং সেভাবেই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ভুক্তভোগী মো. সুমন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণীতে বাদী সুমন উল্লেখ করেন, তাঁর বড় ভাই কাউসার দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। ছোট বোনের বিয়ে ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গত ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়া থেকে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ২০০ গ্রাম সোনা দেশে পাঠান তিনি। সেই সোনা সংগ্রহের জন্য একই দিন রাত আটটার দিকে সুমন ও তাঁর বন্ধু রোহান চৌধুরী বিমানবন্দর এলাকায় যান। নির্ধারিত ব্যক্তির কাছ থেকে সোনার অলংকার বুঝে নেওয়ার পর তাঁরা একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে রওনা হন এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের উল্টো পাশে এসে গাড়ি থেকে নামেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ওত পেতে থাকা আসামিরা সুমন ও তাঁর বন্ধুকে চারিদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। আসামিরা তাঁদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে বলে, তাঁরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাঁদের কাছে হাতবোমা রয়েছে। এই অজুহাতে তারা সুমন ও রোহানকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাঁদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম ওজনের সোনার অলংকার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। আশপাশের পথচারী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে দুর্বৃত্তরা ছিনতাইকৃত সোনা নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।
ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে হাতেনাতে ধরে এবং ছিনতাই হওয়া ২০০ গ্রামের মধ্যে ১০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে। মামলার অন্য এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ও বাকি সোনা উদ্ধারে বিমানবন্দর থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



