খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
শহীদশরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডেরমূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারদাবিতে আজ রোববার ঢাকারশাহবাগ মোড়ে শুরু হয়েছেইনকিলাব মঞ্চের সর্বাত্মক অবরোধ।বেলা দুইটার পর থেকেআন্দোলনকারীরা মোড়টি সম্পূর্ণভাবে অবরোধকরে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ রাখে।
গতকালরাতে দেশের সব বিভাগীয়শহরে এই সর্বাত্মক অবরোধেরডাক দেয় ইনকিলাব মঞ্চ।পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, অবরোধের সময় বেলা দুইটাহলেও, সকাল ১১টার মধ্যেইবিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড়ে উপস্থিতহতে শুরু করেন। তারাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়েআন্দোলনরত জনতার পরিচয় বহনকরে এবং একের পরএক স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধচলাকালীন মুহূর্তে শাহবাগ মোড়ের মাঝখানেবসে থাকা নেতাকর্মীরা “নারায়েতাকবির, আল্লাহু আকবর”, “আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম”, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকাঢাকা”, “গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি”, “যেই হাদি জনতার, সেই হাদি মরে না” এবং “হাদি না মোদি, হাদি হাদি” প্রভৃতি স্লোগানদেন।
ওসমানহাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ওবিচারের দাবিতে গত শুক্রবারবেলা থেকে শুরু হওয়াঅবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশা ও বয়সেরমানুষ অংশগ্রহণ করেন।
গতশনিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চেরসদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জেলাও বিভাগীয় শহরগুলোতে সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দেন। অবরোধঘোষণার আগে রাত ১১টারদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুপরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দারিজওয়ানা হাসান ও ঢাকামহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাতআলী শাহবাগে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত জনতারউদ্দেশ্যে মামলার অগ্রগতি তুলেধরেন। তাঁরা ৭ জানুয়ারিরমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ার এবং দ্রুতবিচার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।তবে এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যানকরে নতুন কর্মসূচি ঘোষণাকরে ইনকিলাব মঞ্চ।
আজডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিতসংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস.এন. নজরুলইসলাম জানান, শরিফ ওসমানহাদি হত্যা মামলার প্রধানআসামি ফয়সাল করিম মাসুদও সহযোগী আলমগীর শেখভারতে পালিয়েছেন। তাদের পালাতে সহায়তাকরেছে দুই ভারতীয় নাগরিক, যাদের মেঘালয় পুলিশ গ্রেপ্তারকরেছে। ডিএমপি জানিয়েছে, আগামী৭–১০ দিনের মধ্যেমামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ওসমানহাদি গত বছরের আগস্টেইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ওভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনিঢাকার ৮ নং আসনেপ্রার্থী হওয়ার প্রচারও চালাচ্ছিলেন।১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বক্সকালভার্ট রোড এলাকায় লক্ষ্যকরে গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসারজন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোহয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বরচিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
| তারিখ/সময়কাল | ঘটনা |
| ২০২4 সালের আগস্ট | ইনকিলাব মঞ্চ গঠন ওরাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু |
| ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ | পুরানা পল্টন, ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন |
| ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ | সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ |
| ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর | ঢাকার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু |
| ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ | সর্বাত্মক অবরোধ ও স্লোগান সমেতশাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ |
এইসর্বাত্মক অবরোধ দেশের রাজনৈতিকঅঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাতকরেছে এবং শীঘ্রই আসামিদেরগ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়েজনমতকে প্রভাবিত করবে।