খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২৪ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানী হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম ওরফে রবিকে প্রকাশ্যে গুলি করার পর কুপিয়ে জখম করার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে নগরীর পঞ্চবটী এলাকার খড়বোনার গাড়োয়ানপাড়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রবি বাড়ির পাশে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন এসে তাকে ঘিরে ফেলে। তখনই গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপাতে থাকেন। দৌড়াতে গিয়ে রবি হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। তখন ফের ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপানো হয়। একপর্যায়ে একজন হামলাকারী কাছ থেকে তার পায়ে গুলি করেন। হামলার সময় কাতরাতে কাতরাতে রবি বলছিলেন, ‘ও বাপ, ও মা, আমি কী করছি।’ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই নারী এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেও গুলির শব্দ শুনে সরে যান। আশপাশ থেকে নারীদের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।
আহত রবিকে স্থানীয়রা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে তাকে ভর্তি করা হয় ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে। রাতেই অস্ত্রোপচার শুরু হলেও অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, রবির এক পায়ে গুলি লেগেছে। তার অন্য পা ও দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। অস্ত্রোপচার শুরু হলেও পরিবারের ইচ্ছায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
আহত রবির বাড়ি নগরীর বিনোদপুর-মীর্জাপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আজিজুল ইসলাম। রবি আওয়ামী লীগের কর্মী। তার ভাই শহিদুল ইসলাম শহিদ নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনিও নোমানী হত্যা মামলার আসামি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, রবির বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাবি শিবির নেতা নোমানী হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে। হামলার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত জড়িতদের শনাক্ত বা আটক করা যায়নি।
তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তারা ফিরে এসে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী বিনোদপুর বাজারে ছাত্রশিবির, ছাত্রলীগ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি শরিফুজ্জামান নোমানী। এই মামলার অন্যতম আসামি রবি গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। রবির ভাই শহিদুল ইসলাম ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে জনতার হাতে আটক হন এবং পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন শহিদুল ইসলাম। সেদিন কয়েকজন যুবক তার দুই পায়ের রগ কেটে দেন। হামলায় আহত হন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ও মির্জাপুর নাজমুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইনুল হোসেন এবং যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন।
খবরওয়ালা/টিএ