খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গত বছরের আগস্টে গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। একই সময় আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতার ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকেও লুট হয়ে যায় দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের বহু চিত্রকর্ম। এ সময় অনেক শিল্পকর্ম কেবল লুটই হয়নি, ধ্বংসও হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, শাহরিয়ার আলম, আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানের মতো নেতাদের বাসায় ছিল শিল্পকর্মের বড় সংগ্রহ। এসব লুট হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো শিল্পকর্ম উদ্ধারের তথ্য জানা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও কোনো অভিযোগ বা জিডি নথিভুক্ত হয়নি। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, লুট হওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে কামরুল হাসান, এসএম সুলতান, মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, শহিদ কবির, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, রশিদ চৌধুরী, মুর্তজা বশীর ও কনকচাঁপা চাকমার মতো প্রথিতযশা শিল্পীর কাজ। আরো অনেক শিল্পীর দুর্লভ চিত্রকর্মও এভাবে খোয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এগুলো জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
৫ আগস্ট গণভবন থেকে বিভিন্ন সামগ্রীর সঙ্গে মূল্যবান চিত্রকর্মও লুট হয়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এর মধ্যে প্রভাবশালী নেতা সালমান এফ রহমানের গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ার বাড়ি ছিল অন্যতম। সেখানে কোটি টাকা দামের চিত্রকর্মসহ বহু শিল্পকর্ম দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু হামলার সময় সেগুলো লুট হয়ে যায়।
বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানান, সেদিন শত শত মানুষ বাড়িটির দিকে ছুটে আসে। গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার পর আশপাশের ধনী পরিবারগুলোর লোকজনও বাড়িতে প্রবেশ করে দেয়ালে টাঙানো শিল্পকর্ম নিয়ে যায়। অনেক সময় তারা রাস্তায় ‘টোকাই’দের কাছ থেকেও ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় শিল্পকর্ম কিনে নেয়।
শিল্পী নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা দেখলাম অনেক বিত্তবান পরিবারের বাসায় কী চমৎকার সংগ্রহ ছিল। পরে সেখান থেকেই শিল্পকর্ম লুট হয়ে গেল। কারা নিয়ে গেল আমরা দেখেছি, কিন্তু সেগুলো কোথায় গেল কেউ জানে না।”
তিনি আরো বলেন, “দুর্লভ শিল্পকর্ম হারানো বা পাচারের ক্ষেত্রে আইনগতভাবে কী করার বিধান আছে—এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। কপিরাইট সুরক্ষার অভাব, বাজারে নকলের ছড়াছড়ি এবং সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক অসচেতনতা প্রমাণ করে শিল্পকে আমরা এখনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব দিইনি। শিল্পের প্রতি এই অবহেলাই সমাজ ও নেতৃত্বকে আঘাত করছে।”
সালমান এফ রহমানের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধারের বিষয়ে জানতে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তারেক মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/এমএজেড