খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহ নগরের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় লরি ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার (স্থানীয়ভাবে মাহিন্দ্রা নামে পরিচিত) মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা আঞ্চলিক মহাসড়কের স্বপ্নার মোড় এলাকায় ব্র্যাক স্কুলের সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রাটি ময়মনসিংহ শহর থেকে নেত্রকোনার দিকে যাচ্ছিল। পথে শম্ভুগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ এক নারী নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই লরির চালক গাড়ি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এতে করে ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়ক |
| সময় | মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট |
| যানবাহন | লরি ও যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রা (অটোরিকশা) |
| নিহত | ২ জন (একজন শিশু ও একজন নারী) |
| আহত | ৩ জন |
| চালকের অবস্থা | লরি ফেলে পালিয়ে যায় |
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত শিশুটির বয়স আনুমানিক ১৮ মাস। নিহত অপর নারী যাত্রী ছিলেন, যার বয়স প্রায় ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিশুটির মা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার একটি হাত ভেঙে গেছে। আহতদের দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন এবং পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লরিটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শম্ভুগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় সড়কটি সংকীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেশি।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অভাব এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। পাশাপাশি চালকদের ক্লান্তি ও নিয়ম না মানার প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন এবং আহতদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, লরি ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।