খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ হোসেনকে নিয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) যে সন্ত্রাসবিরোধী মহড়ার আয়োজন করেছে ,তা নিঃসন্দেহে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক সাহসী দৃষ্টান্ত।
সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকাজুড়ে পরিচালিত এই মহড়ায় সাজ্জাদকে হেলমেট, কোমরে রশি ও হাতকড়া পরিয়ে জনগণের সামনে ঘোরানো হয়। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রেফতার। কেউ অপরাধী দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন।’
এই মহড়ার লক্ষ্য ছিল — জনগণের মধ্যে ভীতি দূর করা এবং তাদেরকে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে পুলিশের অংশীদার হিসেবে সক্রিয় করা।
একটি অপরাধী, একটি বার্তা
ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বায়েজিদ, খুলশি, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার বসুন্ধরা সিটি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
পুলিশের কৌশলে পরিবর্তন
সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ জানিয়েছেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। এই মহড়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বার্তা নয়, বরং গোটা অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এমন প্রকাশ্য প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জনগণ যেন বুঝতে পারে— সন্ত্রাসীরা আর ধরাছোঁয়ার বাইরে নেই ‘
জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
অনেকে মহড়াটিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট অপরাধীকে মানুষ নয়, অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য এক নজিরবিহীন বার্তা। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি শীর্ষ সন্ত্রাসীকে নিয়ে এমন মহড়া দেখালো যে, ‘আইন ও বিচার শুধু কাগজে নয়— বাস্তবেও প্রয়োগযোগ্য।’
সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের এই সচেতনতামূলক পদক্ষেপ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। জনগণের সাহস, তথ্য, এবং পুলিশের দক্ষতা এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে একটি সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ।
যখন রাষ্ট্র নিজেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পথে কঠোর বার্তা দেয়, তখন সমাজে অপরাধীদের দম্ভভঙ্গ হয়। চট্টগ্রামে ছোট সাজ্জাদকে নিয়ে সিএমপির এই মহড়া সেই বার্তাই বহন করে ‘অপরাধী যত বড়ই হোক, তার স্থান জেলখানায়।’
খবরওয়ালা/এসআর