খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় এক ভয়াবহ তুষারধসে ছয় ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং তিন পেশাদার গাইডসহ ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই দুর্ঘটনাটি গত ৪৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তুষারধস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নিহতরা ছিলেন পেশাগত জীবনে সফল, পরিবারে নিবেদিত প্রাণ মা ও স্ত্রী। পাহাড়ের প্রতি গভীর টান এবং স্কি করার ভালোবাসার কারণে তারা পেশাদার গাইডের তত্ত্বাবধানে তিন দিনের একটি ব্যাককান্ট্রি স্কি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
নিহতদের পরিচয় ও স্থানীয় বসবাসের তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | সম্পর্ক | বসবাসের স্থান |
|---|---|---|
| লিজ ক্ল্যাবাঘ | বোন | আইডাহো, যুক্তরাষ্ট্র |
| ক্যারোলিন সেকার | বোন | আইডাহো, যুক্তরাষ্ট্র |
| ক্যারি অ্যাটকিন | বান্ধবী | বে এরিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া |
| ড্যানিয়েল কিটলি | বান্ধবী | বে এরিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া |
| কেট মোর্স | বান্ধবী | বে এরিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া |
| কেট ভিট | বান্ধবী | বে এরিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া |
| তিনজন পেশাদার গাইড | – | – |
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, নিহতরা সবাই দক্ষ স্কিয়ার ছিলেন এবং সমস্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রকৃতির রুদ্ররোষের কাছে তাদের সমস্ত প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না।
দুর্ঘটনার দিন, মঙ্গলবার সকালে দলটি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন হঠাৎ একটি ফুটবল মাঠের সমান তুষারস্তর তাদের ওপর পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তারা। বিপদসংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকর্মীরা অভিযানে নেমেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। প্রবল বাতাস এবং শূন্য দৃশ্যমানতার মধ্যে যখন উদ্ধারকারীরা পৌঁছান, তখন কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে।
উদ্ধার কার্যক্রমে ছয়জন বেঁচে ফিরলেও বাকিদের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়নি। নেভাদা কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় এখনো আটজনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, এবং একজন এখনও নিখোঁজ।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তুষারধসের পর তারা কয়েক ঘণ্টা একটি ত্রিপলের নিচে আশ্রয় নিয়ে সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন।
মনের প্রতি গভীর ক্ষতি নিয়ে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমেছে। মনোবিজ্ঞানী সারা বয়েলেন বলেন, যারা পাহাড়কে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। যেখানে তারা প্রশান্তি খুঁজতেন, সেখানে প্রিয়জনদের হারানোর ট্রমা তাদের বয়ে বেড়াতে হবে। পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা আর ঝুঁকি—এই দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক মর্মান্তিক সমাপ্তি দেখেছে সিয়েরা নেভাদা।
এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে, বিশেষ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কোনো নিরাপত্তাহীনতা বা অপরাধমূলক অবহেলা ছিল কি না। পুরো সম্প্রদায় শোকাহত ও হতবিহ্বল, যাদের মধ্যে অনেকেই পাহাড়ে ভ্রমণ এবং স্কি করার স্বাভাবিক আনন্দে এখন গভীর দুঃখ বোধ করছেন।