খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ডাম্বুলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাটকীয় এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৪ রানে পরাজিত করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। প্রকৃতির খেয়ালে ম্যাচটি ১২ ওভারে নেমে এলেও উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছে শেষ বল পর্যন্ত। ইনিংসের শেষ ওভারগুলোতে দুই দলের বিপরীতমুখী পারফরম্যান্সই মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ১-১ সমতায় ড্র হলো। সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান জয়লাভ করলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল।
শানাকার তান্ডব ও শ্রীলঙ্কার বিশাল সংগ্রহ
বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত ১২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় লঙ্কানরা। ইনিংসের শেষ ওভারে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওপর চড়াও হন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ওভারের প্রথম তিন বলেই টানা তিনটি ছক্কা মেরে ওয়াসিমকে দিশেহারা করে দেন তিনি। শানাকা মাত্র ৯ বল খেলে ৩৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে পাঁচটিই ছিল ছক্কা। এছাড়া কুশল মেন্ডিস ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা কার্যকর ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে শক্ত ভিত্তি দেন।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নিচে সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| ম্যাচের ব্যাপ্তি | ১২ ওভার (বৃষ্টির কারণে কার্টেল ওভার) |
| শ্রীলঙ্কার স্কোর | ১৬০/৬ (১২ ওভার) |
| পাকিস্তানের স্কোর | ১৪৬/৮ (১২ ওভার) |
| ম্যাচসেরা পারফরমার | ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (৪ উইকেট) |
| শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ রান | দাসুন শানাকা (৩৪ রান, ৯ বল) |
| পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান | সালমান আলী আগা (৪৫ রান, ১২ বল) |
| সিরিজ ফলাফল | ১–১ সমতায় ড্র |
পাকিস্তানের রান তাড়া ও ব্যাটিং বিপর্যয়
১৬১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা শুরু থেকেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। তিনি মাত্র ১২ বলে ৪৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যার ফলে ৩.৪ ওভারেই পাকিস্তানের স্কোর ৬০ রানে পৌঁছে যায়। তবে মাতিশা পাতিরানার বলে সালমান বিদায় নিলে পাকিস্তানের রানের গতি কিছুটা কমে আসে। মোহাম্মদ নেওয়াজ ও খাজা নাফি জয়ের চেষ্টা চালালেও লঙ্কান স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ঘূর্ণি জাদুতে পথ হারায় পাকিস্তান। হাসারাঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৪টি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন।
শেষ ওভারের নাটকীয়তা
জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। বল হাতে ছিলেন লঙ্কান পেসার ঈশান মালিঙ্গা। কিন্তু স্ট্রাইকে থাকা মোহাম্মদ ওয়াসিম মালিঙ্গার নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। প্রথম বলে ১ রান নিতে গিয়ে রানআউট হন ফাহিম আশরাফ। এরপর ওয়াসিম টানা ৪টি বৈধ বল ডট খেলেন। যদিও মালিঙ্গা এই ওভারে ৪টি ওয়াইড দিয়েছিলেন, কিন্তু ওয়াসিম ব্যাট দিয়ে কোনো রান যোগ করতে ব্যর্থ হন। পুরো ওভারে মাত্র ৫ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান, ফলে ১৪ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা নিজেদের মাটিতে মান বাঁচালো এবং সিরিজ হার এড়াতে সক্ষম হলো। দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যের জন্য ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ম্যাচ ও সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন।