খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
চেয়ারম্যান জানান, দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। এই মজুদ দেশের চলমান চাহিদা পূরণে সক্ষম এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গতকাল পর্যন্ত সাতটি জাহাজের ঋণপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতেও আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মজুদের পরিমাণ পণ্যানুসারে ভিন্ন। ডিজেল, যা পরিবহন ও কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তার মজুদ রয়েছে প্রায় ১৪ দিনের। অকটেনের মজুদ ২৮ দিনের, পেট্রলের ১৫ দিনের, ফার্নেস তেলের ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েলের ৫৫ দিনের সমপরিমাণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের তুলনামূলক বেশি মজুদ বিদ্যুৎ খাতের স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিচে বর্তমান মজুদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলোঃ
| জ্বালানির ধরন | মজুদের স্থায়িত্ব (দিন) | ব্যবহার ক্ষেত্র |
|---|---|---|
| ডিজেল | ১৪ দিন | পরিবহন, কৃষি, শিল্প |
| অকটেন | ২৮ দিন | ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন |
| পেট্রল | ১৫ দিন | হালকা যানবাহন |
| ফার্নেস তেল | ৯৩ দিন | বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা |
| জেট ফুয়েল | ৫৫ দিন | বিমান চলাচল |
চেয়ারম্যান আরও জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে জ্বালানি সংগ্রহে বিকল্প বাজার অনুসন্ধানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেই। পর্যাপ্ত মজুদ এবং ধারাবাহিক আমদানি কার্যক্রমের ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানি উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ জরুরি। বিশেষ করে কৃষি মৌসুম ও গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সময় ডিজেল ও ফার্নেস তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রতিবছরই কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবহন খাতের সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রসারের ফলে আমদানিনির্ভরতার হারও উল্লেখযোগ্য। এ প্রেক্ষাপটে বিপিসির পরিকল্পিত আমদানি, সময়মতো ঋণপত্র খোলা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সবমিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মজুদ নিরাপদ পর্যায়ে রয়েছে এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সরকার ও বিপিসি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে দেশীয় বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।