খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বুধবার (২৩ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক শেষে তিনি বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত জনপ্রিয় সরকার যদি কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তবে জনগণের আস্থা দ্রুত সরে যেতে পারে।
নুর প্রশ্ন তোলেন, কোন যুক্তিতে চারটি দলকে ‘বড় দল’ হিসেবে বৈঠকে ডাকা হয়েছে? তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতের বৈঠকে যে চারটি দল ছিল, তার একটি সদ্য গঠিত এবং এখনও নিবন্ধিত নয়। আজকের ১৩ দলের বৈঠকে প্রায় সবাই এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এনসিপির প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাত দেখাচ্ছে, যা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তার ভাষায়, ‘আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছি, যদি নির্বাচনের আগেই পক্ষপাতের প্রমাণ মেলে, তাহলে সেই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।’
চট্টগ্রামের আইনজীবী হত্যাকাণ্ড এবং গোপালগঞ্জে সম্ভাব্য সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি এসব ঘটনা আগে থেকে আঁচ করতে না পারে, তাহলে তাদের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।’ তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পতিত স্বৈরাচারী শক্তিগুলো আন্দোলনের মধ্যে নাশকতা চালাতে পারে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের বিষয়ে নুর বলেন, ‘এক-দুইটি দলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হয়।’ তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো রাজনৈতিক চাপ বা পক্ষপাত ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে।
স্থানীয় সরকারের বর্তমান কাঠামোকে অকার্যকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় এলাকাভিত্তিক বিশৃঙ্খলা বাড়ছে এবং প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
নুর আরও অভিযোগ করেন, গত ১১ মাসে এনসিপি ছাড়া কোনো ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সরকার বৈঠকে বসেনি। তিনি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকারের মতবিনিময়ের আহ্বান জানান, যাতে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
খবরওয়ালা/এন