খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামের সোহেল রানা ছিলেন একসময় কবিরাজ। গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের চিকিৎসা করতেন, মাজারেও যেতেন নিয়মিত। কিন্তু ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হয় তাঁকে।
সেদিন স্থানীয় সন্ত্রাসী সুমন বাহিনী তাঁকে একটি ইটভাটায় ডেকে নেয়। প্রথমে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে, ব্যর্থ হলে হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর সন্ত্রাসী সুমন নিজ হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে এবং সেই নৃশংস দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে। পরে লাশ বস্তায় ভরে নৌকায় করে কাপাসিয়া ব্রিজ এলাকায় নিয়ে গিয়ে পাথর বেঁধে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সুমন হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। গাজীপুরের শ্রীপুর ও আশপাশের এলাকায় গড়ে তোলে ত্রাসের রাজত্ব।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের ত্রিমোহনী ব্রিজ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু পথে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে সুমনকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগীরা। এতে আহত হন অন্তত সাত পুলিশ সদস্য।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমন আল মোজাহিদ ওরফে সুমন (৩২) বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক গ্রামের বাসিন্দা এবং মোসলেম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তিনি বরমী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
তাঁর বিরুদ্ধে পল্টনে বোমা হামলা, সোহেল রানা হত্যা, অস্ত্র মামলা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ ডজনখানেক মামলা রয়েছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সিটিটিসি তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
২০২৪ সালে যুবলীগ নেতা ফয়সাল আবেদীনকে তুলে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে বরমী বাজারের এক ব্যক্তির ৩০ কোটি টাকার জমি এবং সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন, সুমন বাহিনীর টার্গেটে পড়লে আর রক্ষা নেই। জিম্মি করে টাকা দাবি না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য হাতে অস্ত্র বা মাদক দিয়ে ভিডিও ধারণ করে।
সন্ত্রাসীকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি, পুলিশি গাফিলতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে এবং দ্রুত সুমনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে হবে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, সুমনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই পাঁচটি মামলার প্রমাণ মিলেছে, আরও তদন্ত চলছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড