খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসরায়েল দেশটিতে সামরিক সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল—সম্প্রতি প্রকাশিত ইসরায়েলি পররাষ্ট্র নথিপত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ১৯৭০ সালে আরব দেশগুলোর চাপে শ্রীলঙ্কা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও, ১৯৮৪ সালে কলম্বোয় মার্কিন দূতাবাসের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের ‘ইন্টারেস্টস সেকশন’ স্থাপন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল দেশটির তামিল বিদ্রোহ দমন ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রীলঙ্কা ইন্টারেস্টস সেকশন স্থাপনে সম্মত হয়েছিল কারণ তারা চাইছিল ইসরায়েল তামিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সহায়তা করুক। ১৯৮৮ সালের মধ্যে ইসরায়েল শ্রীলঙ্কাকে প্রায় ৩ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
| সাল | সহায়তার ধরন | পরিমাণ / বিবরণ | লক্ষ্য / মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১৯৮৫ | দ্রুতগামী টহল নৌকা | ৬টি ডভোরা-ক্লাস, ১ কোটি ডলার | সামুদ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি |
| ১৯৮৬ | মিনি-উজি সাবমেশিন গান | উল্লেখযোগ্য পরিমাণ | বিদ্রোহ দমন |
| ১৯৮৭ | ইলেকট্রনিক ফেন্স, যোগাযোগ সরঞ্জাম, মেশিনগান | বিভিন্ন সরঞ্জাম | সীমান্ত ও নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ |
| ১৯৮৬ | প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীদের প্রশিক্ষণ | ৩০ জন, ৪ দিনের কোর্স | ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি |
| ১৯৮৭ | সামরিক প্রশিক্ষণ | ইসরায়েলি প্রশিক্ষকরা ‘কৃষি উপদেষ্টা’ ছদ্মবেশে | স্থানীয় বাহিনীকে দ্রুত আক্রমণে প্রস্তুত করা |
| ১৯৮৭ | এসটিএফ ও বিশেষ পুলিশ ইউনিট | সীমিত, উচ্চ প্রশিক্ষণ | মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্ত্বেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি |
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জুনিয়াস রিচার্ড জয়াবর্ধনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইউনিটের প্রশিক্ষণও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা পরিচালনা করেছিল। ১৯৮৬ সালের আগস্টে একটি চার দিনের শুটিং কোর্স প্রশিক্ষণার্থীরা সম্পন্ন করে, যা প্রশংসা কুড়ায়।
ইসরায়েলি প্রশিক্ষকরা জনসমক্ষে ‘কৃষি উপদেষ্টা’ পরিচয় ব্যবহার করলেও, মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধি। বিশেষ করে জাফনা অঞ্চলের তামিল বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় স্থানীয় বাহিনীকে প্রস্তুত করা। এছাড়া, এসটিএফ এবং অন্যান্য বিশেষ ইউনিটকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, যদিও এদের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল।
প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ইসরায়েল সামরিক সহায়তা দেওয়ার সময় মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিল। তারা জানত, সহায়তার সাফল্য সীমিত হতে পারে, তবুও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের কারণে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা, অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ ইসরায়েলের কূটনৈতিক প্রাধান্য ও ভৌগোলিক স্বার্থ নিশ্চিত করেছিল।
মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্টে উল্লেখ ছিল, দক্ষিণের তামিলদের ওপর সেনা ও বিমান হামলা, অনির্দিষ্ট গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধসহ দমন কার্যক্রম চলছিল। তবুও, ইসরায়েলি নথি থেকে দেখা যায়, সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল প্রধানত কৌশলগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে।
এভাবে, প্রকাশিত নথি ইঙ্গিত দেয় যে, ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে ইসরায়েলের অবদান ছিল গুপ্ত এবং নির্দিষ্ট সামরিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য।