খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২৮ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মাজেদ বিশ্বাসের দ্বিতীয় স্ত্রী হামফুর বেগম অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে প্রথম পক্ষের ছেলে-মেয়েরা তাদের নামে সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, দ্বিতীয় স্ত্রী হামফুর বেগমসহ তার আত্মীয়-স্বজনরা মাজেদ বিশ্বাসের দাফন কাজ আটকে দেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিসে বসেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। সালিসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) উভয়পক্ষের অংশীদারদের মধ্যে জমি সমবন্টন করার পর মাজেদ বিশ্বাসের লাশ দাফন করা হবে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মরাপাগলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গেছে, মাজেদ বিশ্বাসের দুই ছেলে লতিফুর রহমান ও জাব্বার, যাদের পুলিশে চাকরি রয়েছে, তারা তাদের বাবাকে চিকিৎসার জন্য অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে তার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেন। হামফুর বেগম অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে তার স্বামী অসুস্থ হলে তার ছেলেরা তাকে চিকিৎসা করানোর নামে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে, তার ছেলেরা মাজেদ বিশ্বাসকে জোরপূর্বক সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেয়। এরপর ১৬ এপ্রিল, মাজেদ বিশ্বাসের তালাকনামা ওকিল নোটিশের মাধ্যমে হামফুর বেগমের কাছে পাঠানো হয়, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।
হামফুর বেগম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করলে, ৫ মে গ্রাম্য সালিসের দিন নির্ধারণ হয়। কিন্তু ২৭ এপ্রিল, মাজেদ বিশ্বাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার ছেলেরা লাশ গ্রামে নিয়ে এলে, দ্বিতীয় স্ত্রী হামফুর বেগম তা দাফন করতে বাধা দেন। তার মতে, প্রথম পক্ষের ছেলে-মেয়েরা তার স্বামীকে বঞ্চিত করেছে এবং তাদের অবৈধ সিদ্ধান্তের কারণে তিনি দাফন করতে দেবেন না।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাজেদ বিশ্বাসের ছেলেরা চিকিৎসার নামে তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নিয়েছিল। এরপর, মৃত্যুর পর দাফন করার জন্য তার ছেলেরা লাশ নিয়ে আসলে হামফুর বেগম বাধা দেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়ে সালিসের আহ্বান করেন।
এ বিষয়ে কথা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, ‘যিনি মারা গেছেন, তিনি কিছুদিন আগে অসুস্থ ছিলেন। তার ছেলেরা তাকে চিকিৎসার নাম করে নিয়ে গিয়ে তার সৎ মাকে তালাক দিয়ে, সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছে। এখন তার সৎ মায়ের প্রতিবাদে দাফন আটকে গেছে।’
অন্য এক বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের দ্বন্দ্ব চলছে। দাফন আটকে গেছে এবং জমি ভাগাভাগি নিয়েও সমস্যা রয়েছে।
হামফুর বেগমের ভাতিজি অভিযোগ করেছেন, ‘আমার ফুফু একেবারে অসহায়। তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে যখন তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তার প্রতি এ ধরনের অবিচার মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
হামফুর বেগম বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর ধরে আমার স্বামীর সেবা করেছি এবং তার ছেলেদের মানুষ করেছি। তারা এখন সরকারি চাকরি করছে। কিছুদিন আগে প্রায় ১০ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেছে, কিন্তু আমি কিছু বলিনি। তারপর হঠাৎ করে আমার ছেলেরা আমার স্বামীকে চিকিৎসা করানোর নাম করে নিয়ে গিয়ে তার সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেয়। তারপরে, আমার স্বামী আমাকে তালাক দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এটা তার ছেলে-মেয়েদের কাজ। আমি নায্য বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মাজেদের দুই ছেলে লতিফুর রহমান ও জাব্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা গণমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তির দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষের ছেলে-মেয়েরা চিকিৎসার নামে তার বাবা মাজেদ বিশ্বাসকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। মৃতের ছেলেরা লাশ দাফন করতে এসেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে আপোস-মীমাংসা করা হয়েছে এবং আগামীকাল উভয়পক্ষের মধ্যে জমি সমবন্টন করার পর লাশ দাফন করা হবে।’
এ পরিস্থিতিতে, এলাকার বাসিন্দারা সুষ্ঠু বিচার এবং লাশের সঠিক দাফন দাবি করছেন, যাতে আর কোনো অশান্তি না হয়।
খবরওয়ালা/আরডি