খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়ক সংস্কারের কাজে ব্যবহারের কথা বলে শঙ্খ নদী থেকে বালু তুলছেন এক ঠিকাদার। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বালু পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এলজিইডি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়কের বটতলী রুস্তমহাট বাজার থেকে রায়পুর ইউনিয়নের ওয়াহেদ আলী বাজার পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি পেয়েছে প্রতিষ্ঠান ইয়াকুব অ্যান্ড ব্রাদার্স। পরে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজটি জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মো. হাবিব উল্লাহসহ কয়েকজনের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে সাব ঠিকাদার দল কাজটি পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, শঙ্খ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো থেকে বালু তুলে নেওয়া হচ্ছে। সাব ঠিকাদার দাবি করেন, সড়ক সংস্কারের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই বালু আনা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের বক্তব্য, বাইন্নার দীঘি এলাকা থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে যত বালু নেওয়া হচ্ছে, তার একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ নদীভাঙন ঠেকাতে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন জানান, প্রতিদিন নদীর ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে বালু তোলা হচ্ছে। সড়ক সংস্কারের কথা বলা হলেও অতিরিক্ত বালু বিক্রির ফলে নদীপাড়ের ব্লক ও বেড়িবাঁধের ক্ষতি হতে পারে। কামাল উদ্দিন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, তিনি নিজের ভিটা ভরাটের জন্য ঠিকাদারের লোকদের কাছ থেকে ৫০ ট্রাক বালু কিনেছেন, প্রতিট্রাক ১৩৫০ টাকায়।
ক্রেতা পরিচয়ে বালু মহলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. ছৈয়দের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বালু মহল থেকে ২.৫ কিলোমিটার দূরত্বে প্রতিট্রাক বালুর দাম ১৪০০ টাকা।
অভিযোগের বিষয়ে সাব ঠিকাদার প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বাইরে থেকে বালু এনেছি। এগুলো শুধুই সড়ক উন্নয়নে ব্যবহার হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা হচ্ছে না।’
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বর্ণ হক জানান, বাঁধের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বালু তোলা হলে বাঁধ ও ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ফলে নদীভাঙনও বাড়বে।
উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘যদিও কাজটি সাব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করছে, বালু কোথা থেকে আনা হচ্ছে সেটা আমার জানা নেই।’
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘সড়ক উন্নয়নের কাজে নদী থেকে বালু তোলার অনুমতি কোনো ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন