খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
সম্প্রতি এক টেলিভিশিন টক শোতে নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, দেশের মানুষ বারবার আশাহত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যতগুলো বড় বড় রাজনৈতিক দলের উত্থান হয়েছে, দেশের মানুষের মাঝে প্রতিবারই আশার সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সময় যত যাচ্ছে সন্দেহ বাড়ছে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কিংবা অন্যদের যুদ্ধাপরাধ বিচার করার জন্য ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে যে বিশাল জনসমাবেশ সেটাকে অনেকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলেছে। আবার এটাকেও দ্বিতীয় স্বাধীনতা, দ্বিতীয় বিজয় এসব বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ২৪ এর ঘটনাটা বিরাট বড় ব্যাপার। কিন্তু যারা এটাকে স্বাধীনতা কিংবা বিজয় দিবস বলেন তারা কি স্বাধীনতার যুদ্ধ, সংগ্রাম ভালো করে গবেষণা করেছেন?
যে ঘটনা ঘটতে একটা প্রফেশনাল পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ মানুষকে যুদ্ধে প্রাণ হারাতে হয়েছে, কত মানুষকে দেশান্তরী হতে হয়েছে, কত মানুষকে ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্টের শিকার হতে হয়েছে, কত লক্ষ মানুষ আহত হয়েছে। প্রবাসী মানুষদের যে পরিমাণ ত্যাগ তিতীক্ষা কষ্ট করতে হয়েছে, সেগুলোর মধ্য দিয়ে যে অর্জিত স্বাধীনতা সেটার সঙ্গে আজকের এই মহান গণ-অভ্যুত্থানকে তুলনা করলে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ছোট করে দেখা হবে। ওইটা অনেক বড় ব্যাপার ছিল, বিজয় দিবসটা এসেছিল অনেক বড় আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।
এই সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে একটা নতুন সরকার লক্ষ্য করেছি উল্লেখ করে নূরুল বলেন, ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যারা বিপ্লব সংগঠিত করেছিলেন তাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চাইনিজ বিপ্লবের মধ্যেও একই ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু আমাদের এখানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের প্রতিনিধিত্ব আছে, তাদের মনোনীত ব্যক্তিবর্গও আছেন, কিন্তু এই সরকারের নেতৃত্ব তাদের হাতে না। ফলে এগুলো বিপ্লব বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে পাপাচারের সমান।
নূরুল আরও বলেন, এই প্রতিনিধিত্ব করতে যারা এসেছেন তাদের অনেককেই এই সংগ্রামের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে কোনোদিন অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
এমন অনেকে আছেন যারা নিরাপদ দূরে থেকে কিছু কথাবার্তা বলেছেন, কিন্তু খুব ঝুকিপূর্ণ কথাবার্তাও বলেননি। এদেরকে আমরা মধ্যবিত্ত ভদ্রলোকদের একটা সুশীল গ্রুপ বলতে পারি।
খবরওয়ালা/এফএস