রাজ্যের পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রথম চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সোমবার (১৬ মার্চ) পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্র তিনি সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর জমা দিয়েছেন।
ঢাকা পোস্টকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “একান্ত ব্যক্তিগত কারণে আজ আমি পদত্যাগ করেছি। বয়স হয়েছে, আর দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নই। অবশিষ্ট সময়টা রিলাক্সে কাটাতে চাই।”
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সরকারের সাবেক সচিব। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তাকে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন ব্যাংকটি নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছিল।
ব্যাংক গঠনের পেছনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে আটটি প্রভাবশালী ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটি — এক্সিম ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক — একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। এই উদ্যোগ মূলত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারার সমস্যা সমাধানের জন্য নেওয়া হয়।
নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫,০০০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে, যার মধ্যে সরকার সরাসরি দিয়েছে ২০,০০০ কোটি টাকা, এবং বাকি ১৫,০০০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে আমানতকারীদের তহবিল থেকে। এছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর জন্য ২ লাখ টাকা করে মোট ১২,০০০ কোটি টাকার আমানত বিমা তহবিল থেকে অর্থ প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গঠনের তারিখ | ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট |
| একীভূত ব্যাংক সংখ্যা | ৫টি (এক্সিম, সোশ্যাল, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল) |
| মোট মূলধন | ৩৫,০০০ কোটি টাকা |
| সরকারের অংশ | ২০,০০০ কোটি টাকা |
| আমানতকারীদের অংশ | ১৫,০০০ কোটি টাকা |
| আমানতকারীর সংখ্যা | প্রায় ৭৮ লাখ |
| বিমা তহবিল থেকে প্রদান | ২ লাখ টাকা প্রতি আমানতকারী, মোট ১২,০০০ কোটি টাকা |
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার পদত্যাগের পর ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে সরকারের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যাংকের কর্পোরেট কর্মকাণ্ড ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এভাবে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর যাত্রা করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়।



