রাজধানীর খিলক্ষেতে মাটির নিচে বিদ্যুতের লাইনের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির তিন জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতরা সবাই ডেসকোর আউটসোর্সিং (সাব-ঠিকাদার) প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োজিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খিলক্ষেতের খাঁপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। শ্রমিকরা একটি মন্দিরের পাশে মাটির নিচে বৈদ্যুতিক তার বসানোর জন্য ক্রেন ব্যবহার করছিলেন। কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তারা একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটির তারের সঙ্গে স্পর্শ করলে সবাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ও আহতদের তথ্য
নিহত ও আহতদের বয়স, ঠিকানা ও বর্তমান অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেখানো হলো:
| নাম | বয়স | ঠিকানা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| মো. রাজিব হোসেন | ২৫ | বরগুনা সদর, বরগুনা | মৃত |
| রাজ্জাক মিয়া | ৫৭ | বরগুনা সদর, বরগুনা | মৃত |
| ফরিদ জামান | ৬৪ | বকশীগঞ্জ, জামালপুর | মৃত |
| অজ্ঞাত কর্মী ১ | অজ্ঞাত | অজ্ঞাত | গুরুতর আহত |
| অজ্ঞাত কর্মী ২ | অজ্ঞাত | অজ্ঞাত | গুরুতর আহত |
ঘটনার বিবরণ ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্তব্য
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম জানান, “শ্রমিকরা মাটির নিচে লাইনের কাজ করছিলেন। অসাবধানতার কারণে অন্য একটি সচল খুঁটির তারের সঙ্গে স্পর্শ হয়ে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শহরের জনবহুল এলাকায় মাটির নিচে বৈদ্যুতিক কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক। সাব-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নজরদারি জরুরি, যাতে শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে না পড়ে।
ডেসকো কর্তৃপক্ষ শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছে, “আমরা এই দুর্ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করব।”
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের এই ধরনের দুর্ঘটনা কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশেষত আউটসোর্সিং শ্রমিকদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন অতীব জরুরি।



