খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ মেটাতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। আইএমএফ সতর্ক করেছে, যদি দেশের নিজস্ব আয় বা রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না পায়, তবে বাংলাদেশকে ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে।
সরকারের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল “রোলওভার রিস্ক”, অর্থাৎ পুরোনো ঋণ শোধের জন্য নতুন ঋণ নেওয়ার সুযোগ কমে আসা। এই পরিস্থিতি নতুন ঋণ গ্রহণকে কঠিন করে তোলে এবং সুদের হার বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
আইএমএফের ‘আর্টিকেল ফোর কনসালটেশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে। পূর্ববর্তী অর্থবছরে এটি ছিল ২৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আগামী বছর এই ঋণ পরিশোধ আরও বেড়ে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
| সূচক | পরিমাণ (বিলিয়ন ডলার) | জিডিপি অনুপাত (%) |
|---|---|---|
| মোট ঋণ | ১৮৮.৭৯ | ৪১ |
| অভ্যন্তরীণ ঋণ | ১০১.২৪ | ২২.৬ |
| বৈদেশিক ঋণ | ৮৭.৫৫ | ১৮.৪ |
| অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ | – | ৪.২ |
| বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ | – | ১.২ |
| অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যয়ের অনুপাত | – | ৮৯.৪ (মোট রাজস্বের) |
অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিশোধে সরকারি রাজস্বের ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা সমপর্যায়ের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। নেট অভ্যন্তরীণ ঋণ ইস্যু শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে, তবে আগামীতে এটি গড়ে ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
আইএমএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধ ও রাজস্বের উচ্চ অনুপাত মধ্যমেয়াদে ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া, সরকারী ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি খাতকে ‘ক্রাউড আউট’ করতে পারে, যা ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে ৭ শতাংশের নিচে, যা ঋণ ব্যবস্থাপনায় বাধা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছে, আগামী বাজেটে এই অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আইএমএফ মনে করিয়েছে, সরকারি সিকিউরিটিজ বিনিয়োগকারী বাড়ানো এবং প্রাইমারি ডিলার সিস্টেমের মাধ্যমে ঋণ স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সতর্ক করেছেন, ঋণের ঝুঁকি ‘নিম্ন’ থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে নেমেছে, তবে রপ্তানি আয় ও রাজস্বের তুলনায় ঋণ পরিশোধের হার দ্রুত বাড়ছে। তিনি সুপারিশ করেছেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং উচ্চ সুদের বাণিজ্যিক ঋণ এড়িয়ে চলা উচিত।
আইএমএফের বিশ্লেষণ স্পষ্ট: দেশের ঋণপরিচালনায় অবহেলা করলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সরকারের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব বৃদ্ধি, ঋণের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।