খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩ মে থেকে দেশব্যাপী এই সংগ্রহ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) এক সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোরো ধান ও গম সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। তবে চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি ১৫ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে বা প্রয়োজন দেখা দিলে পরবর্তীতে সভার মাধ্যমে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের ফসলের নায্যমূল্য প্রদানের লক্ষ্যে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে চালের বার্ষিক চাহিদা ৪ কোটি ২৪ লাখ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় খাদ্য মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে।
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংগ্রহের হার ও লক্ষ্যমাত্রার বিস্তারিত বিবরণ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| সংগৃহীত পণ্যের নাম | প্রতি কেজির মূল্য (টাকা) | সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা (মেট্রিক টন) |
| বোরো ধান | ৩৬.০০ | ৫,০০,০০০ |
| সেদ্ধ চাল | ৪৯.০০ | ১১,০০,০০০ |
| আতপ চাল | ৪৮.০০ | ২,০০,০০০ |
| গম | ৩৬.০০ | ৫০,০০০ |
| মোট | — | ১৮,৫০,০০০ |
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান মৌসুমে ধানের উৎপাদন সন্তোষজনক। কৃষি আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। ফলে ধান ও চালের কোনো ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুত রাখা বাধ্যতামূলক। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই মজুত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত কৃষকরা যাতে সরাসরি সরকারের কাছে ফসল বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিগত বছরের তুলনায় এবার সংগ্রহের মূল্য কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে যাতে উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে না।