খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনলাইন আবেদন ব্যবস্থার গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে অন্তত ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য দুই ঘণ্টার মতো প্রকাশ্যে চলে গেছে। এই তথ্যের মধ্যে ছিল সাংবাদিকদের ছবি, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), অফিসের পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম সংস্থার অনুমোদিত তালিকা।
এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার সরাসরি প্রমাণ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “কোনো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন সিস্টেম চালু করতে পারে, যেখানে ডেটা প্রোটেকশন, অ্যাকসেস কন্ট্রোল বা বেসিক সিকিউরিটি টেস্টিং নেই? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে পৌঁছেছে কি না।”
জোহা আরও উল্লেখ করেন, “যাঁরা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বড় বড় কথা বলেন, বাস্তবে তাঁরা সবচেয়ে অনিরাপদ হাতে এসব তথ্য রাখেন।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ইসি প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের কার্ড এবং গাড়ির স্টিকার পেতে অনলাইনে (pr.ecs.gov.bd) আবেদন বাধ্যতামূলক করেছিল। তবে সাংবাদিকদের উদ্বেগের কারণে, গত বৃহস্পতিবার ইসি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ম্যানুয়ালি কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
অতীত অনলাইন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, শনিবার বিকেল চারটার দিকে ইসির ওয়েবসাইটে তথ্য ফাঁস ঘটে। ওয়েবসাইটের ইউআরএলে “অ্যাডমিন” ব্যবহার করে সার্চ করলে সম্পূর্ণ আবেদনপত্র, নাম, মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি নম্বরসহ তথ্য দেখা যাচ্ছিল। সন্ধ্যার দিকে এটি বন্ধ করা হলেও ক্ষতি হয়ে গেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, “বিকেল থেকে কিছু ফোন এসেছে, তবে কীভাবে ফাঁস হয়েছে তা জানা নেই। কাল অফিসে গিয়ে বিস্তারিত যাচাই করব।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল সিস্টেম চালুর আগে যথাযথ নিরাপত্তা পরীক্ষা ও সেনসিটিভ ডেটা প্রোটেকশন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক বি এম মাইনুল হোসেন মন্তব্য করেন, “ডিজিটাল সিস্টেম মূলত আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর চলে। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো এই আস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, জনগণ ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে পড়বে। ফলে পুরো ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।”
সাংবাদিক তথ্য ফাঁসের মূল বিষয়াবলী (টেবিল):
| বিষয় | তথ্যের ধরন | পরিমাণ/প্রভাব |
|---|---|---|
| ছবি ও স্বাক্ষর | ব্যক্তিগত ছবি, স্বাক্ষর | ১৪,০০০ জনের জন্য প্রকাশ্যে |
| জাতীয় পরিচয়পত্র | এনআইডি নম্বর | ১৪,০০০ জনের তথ্য উন্মুক্ত |
| অফিস ও সংস্থা তথ্য | অফিসের পরিচয়পত্র, অনুমোদিত তালিকা | সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসহ |
| অনলাইন সিস্টেম | প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া | pr.ecs.gov.bd – নিরাপত্তা ত্রুটি |
| প্রকাশের সময়কাল | তথ্য প্রকাশিত সময় | প্রায় ২ ঘণ্টা |
এই ঘটনায় দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং ভোটার ও সাংবাদিকদের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় নজরদারির প্রয়োজনীয়তা আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হলো।