রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় জাল টাকা ব্যবহার করে রিকশাভাড়া পরিশোধের চেষ্টার অভিযোগে অপু খন্দকার নামে এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে নিউমার্কেট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্যস্ত সাইন্সল্যাব মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে এক রিকশাচালকের সঙ্গে ভাড়া পরিশোধ নিয়ে কথা বলার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি পকেট থেকে কয়েকটি নোট বের করেন। নোটগুলো হাতে নিয়েই রিকশাচালকের সন্দেহ হয়। তিনি লক্ষ্য করেন, নোটের রং, কাগজের মান এবং ছাপার ধরনে অস্বাভাবিকতা রয়েছে। পরে আশপাশের কয়েকজন পথচারী ও শিক্ষার্থী এগিয়ে এসে নোটগুলো পরীক্ষা করেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে সেগুলো জাল বলে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ওই যুবককে আটকে রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসিব জানান, তিনি বাসায় ফেরার পথে ঘটনাটি দেখতে পান। দূর থেকেই নোটগুলোর রঙ ও ছাপার ধরন তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। কাছে গিয়ে দেখেন, রিকশাচালক নোটগুলো নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং দাবি করছেন যে সেগুলো আসল নয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং ঢাকা কলেজের দুই শিক্ষার্থী নোটগুলো আরও ভালোভাবে যাচাই করেন। যাচাই শেষে উপস্থিত সবাই নিশ্চিত হন যে নোটগুলো জাল।
হাসিব আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার দোকান থেকে টাকাগুলো পেয়েছেন। তবে তার বক্তব্যে অসংগতি থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে তারা তাকে ঘটনাস্থলেই আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউমার্কেট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তের মানিব্যাগ তল্লাশি চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০০ টাকার চারটি এবং ২০০ টাকার দশটি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জাল নোটের মোট পরিমাণ ছিল চার হাজার টাকা। পরে জব্দ করা নোটগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নূরনবী ও মিহিরসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি পুলিশকে সহযোগিতা করেন। পরে অভিযুক্তকে উপ-পরিদর্শক দ্বীপায়ন হালদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তিনি কোনো জাল নোট চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি জাল নোট ব্যবহার করে রিকশাভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় জনগণের সন্দেহ হলে তারা নোটগুলো যাচাই করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে এবং উদ্ধার হওয়া নোটগুলো জব্দ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে জাল নোটের বিস্তার সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুর শ্রেণির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে রিকশাচালক, ছোট দোকানি ও দৈনিক আয়ের মানুষ সহজে জাল নোট শনাক্ত করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও জাল নোট তৈরির উৎস ও চক্র শনাক্তে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।