খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
সরকার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপন জারির আগেই তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। এর ফলে ডিএমপি কমিশনার পদে তার দায়িত্ব পালন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো।
ডিএমপি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, যা রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ মহানগর এলাকায় জননিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অপরাধ দমন ও গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনা করে থাকে। প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষের বসবাসের এই মহানগরে পুলিশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে কমিশনার পদে যেকোনো পরিবর্তন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সাজ্জাত আলীর নিয়োগ ছিল চুক্তিভিত্তিক, যা সাধারণত অবসরোত্তর বা বিশেষ প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রদান করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেয়। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ১৯ নভেম্বর। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ ও নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
নিচে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পদ | ডিএমপি কমিশনার |
| কর্মকর্তা | শেখ মো. সাজ্জাত আলী |
| নিয়োগের ধরন | চুক্তিভিত্তিক |
| নিয়োগের তারিখ | ২০ নভেম্বর ২০২৪ |
| মেয়াদের মেয়াদ | ২ বছর |
| মেয়াদ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ | ১৯ নভেম্বর ২০২৬ |
| নিয়োগ বাতিলের তারিখ | ১ মার্চ ২০২৬ |
| বাতিলের কারণ | ব্যক্তিগত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে |
পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের পদে পরিবর্তন সাধারণত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নীতিগত পরিবর্তন কিংবা ব্যক্তিগত কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কেবল তার আবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবুও বিশ্লেষকরা বলছেন—রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও প্রেক্ষাপটে বিবেচিত হতে পারে।
বর্তমানে ডিএমপি কমিশনার পদে কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শিগগিরই নতুন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে রাজধানীর পুলিশ প্রশাসনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং চলমান কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
সব মিলিয়ে, শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের মধ্য দিয়ে ডিএমপি নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।