খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা-এর ঘিওর বাজার এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক নির্যাতনের চেষ্টা করার অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় একই এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ (৬০), যিনি মৃত হামেদ আলীর ছেলে, শিশুটিকে ভুট্টাখেতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শিশুটি প্রস্তাবে রাজি না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে পাশের বাড়ির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রতিবেশীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, খোরশেদ এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের অনৈতিক আচরণ ও ইভটিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার নারী ও কিশোরীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করে আসছিলেন, কিন্তু পূর্বে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও সাহস পেয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
সাটুরিয়া থানার এসআই আরিফ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি এবং আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
ঘটনাটির সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | ঘিওর বাজার, সাটুরিয়া উপজেলা |
| জেলা | মানিকগঞ্জ |
| ভুক্তভোগী | ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী |
| অভিযুক্ত | মো. খোরশেদ (৬০), মৃত হামেদ আলীর ছেলে |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, বেলা ১২টা |
| অভিযোগ | জোরপূর্বক নির্যাতনের চেষ্টা |
| পদক্ষেপ | পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার ও আদালতে প্রেরণ |
| আইনগত অবস্থা | মামলার তদন্ত চলমান |
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা