সাত হাসপাতালে ঘুরে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু সাজিদের মৃত্যু

সাত মাস বয়সী শিশু সাজিদ আল নাহিয়ান হামের উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা, ফেনী এবং ঢাকার একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রোববার (১৭ মে) সকালে তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে। শিশুটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন দুবাই প্রবাসী এবং মা সুলতানা আক্তার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন কন্যা সন্তানের পর দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় সাজিদ। পুত্র সন্তানের আগমনে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই তার স্বাস্থ্যগত সমস্যা শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী পরিণতি নেয়।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল শিশু সাজিদ সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। তখন তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়। কিছুদিনের জন্য তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থতা ফিরে আসেনি।

পরবর্তীতে ১২ মে শিশুটি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা চলার পর তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ফেনী জেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

ঢাকায় নেওয়ার পর প্রথমে তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, পরে ঢাকা ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল এবং সর্বশেষ তেজগাঁওয়ের ইনপালস্ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে রোববার সকালে শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং পরবর্তীতে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পর শিশুটিকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়।

শিশুটির বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন জানান, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কুমিল্লা, ফেনী এবং ঢাকাসহ মোট সাতটি হাসপাতাল ঘুরেও তাদের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়েছে বলে তাদের ধারণা। শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পৌঁছানোর পর হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয় এবং তখনই অবস্থার অবনতি ঘটে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুত্র সন্তানের জন্ম হওয়ায় পরিবারে বিশেষ আনন্দের পরিবেশ ছিল, যা এখন গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল জানান, শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছিল। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে রোববার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যুর খবর তারা জানতে পারেন।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হামে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সংক্রমণ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

উল্লেখ্য, হামে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এ রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে, বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে।

শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং একাধিক হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।