খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই মে ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নৌযান চলাচলে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজনীতি বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
রোববার (১৭ মে) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন। অধ্যাপক মাসগ্রেভ বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষ করে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত কনভেনশন (UNCLOS)-এর মূল নীতিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নৌপথে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এই নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে কোনো দেশ যদি কৌশলগত নৌপথে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তাহলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে। এর ফলে শুধু হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগর নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি মালাক্কা প্রণালী, সুয়েজ খাল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কথা উল্লেখ করেন। এসব নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি দেশ যদি আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্টে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মাসগ্রেভ আরও বলেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের এ ধরনের একপেশে পদক্ষেপকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়, তাহলে অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রও একই ধরনের দাবি তুলতে উৎসাহিত হতে পারে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো দেশ যদি নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এই প্রণালির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের একটি বড় অংশ, প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কৌশলগত নৌপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত না থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা ও ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা উন্নয়নশীল ও উন্নত—উভয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য