খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাঙামাটি সদর উপজেলার কাপ্তাই হ্রদে একটি যাত্রীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কিল্লা পাহাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যদের দ্রুত ও সময়োচিত পদক্ষেপে নৌকায় থাকা ১১ জন যাত্রীর সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নৌকার যাত্রীরা সবাই ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং তারা রাঙামাটির সদর উপজেলার কিল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসুক’ উদযাপন শেষে ইঞ্জিনচালিত দেশীয় নৌকা বা ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
যাত্রাপথে কিল্লা পাহাড় এলাকায় পৌঁছালে নৌকাটি ভারসাম্য হারায়। জানা গেছে, নৌকার সকল যাত্রী আকস্মিকভাবে একপাশে অবস্থান নেওয়ায় বিপরীত দিক দিয়ে ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটি হ্রদের পানিতে তলিয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা জেলা জুরাছড়ি জোনের অন্তর্গত রাজমণিপাড়া সেনা ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত।
দুর্ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথে রাজমণিপাড়া সেনা ক্যাম্পে কর্তব্যরত সেনাসদস্যরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ক্যাম্প কমান্ডারকে অবগত করলে সেনাবাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দল নিজস্ব জলযান নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অন্ধকারের মধ্যেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তলিয়ে যাওয়া নৌকার ১১ জন যাত্রীকে পানি থেকে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অন্যান্য যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান শেষে তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার সময় | বুধবার, রাত আনুমানিক ৭:৪৫ মিনিট |
| ঘটনাস্থল | কিল্লা পাহাড় এলাকা, বালুখালী ইউনিয়ন, রাঙামাটি সদর |
| যাত্রীদের পরিচয় | ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ১১ জন সদস্য (কিল্লাপাড়া নিবাসী) |
| যাত্রার উদ্দেশ্য | বৈসুক উৎসব উদযাপন শেষে প্রত্যাবর্তন |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (রাজমণিপাড়া সেনা ক্যাম্প) |
| হতাহতের সংখ্যা | কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, ১১ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে |
| চিকিৎসা সহায়তা | ১ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, উৎসব ফেরত যাত্রীবাহী ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে গিয়েছিল। সেনাবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিপ্লব ত্রিপুরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত যাত্রীদের মধ্যে আহত একজনকে বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে হ্রদ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে অধিকতর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদে যাতায়াতের সময় নৌকার ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।