সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে ইয়েমেনি বাহিনীর বোমাবর্ষণ, মুখোমুখি ইরান-সৌদি অক্ষ

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি আরব সমর্থিত সরকার। বিমানবন্দরটির মূল রানওয়ে লক্ষ্য করে এই বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। মূলত ইরান থেকে আসা একটি বিশেষ উড়োজাহাজকে সেখানে অবতরণ করা থেকে বিরত রাখতেই এই আকস্মিক ও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে এডেনভিত্তিক ইয়েমেনি প্রশাসন।

বর্তমানে রাজধানী সানা সম্পূর্ণভাবে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে বৈধতা পাওয়া ও সৌদি জোটের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী এডেনকে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী করে সেখান থেকেই তাদের যাবতীয় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই দুই পক্ষের মধ্যে চলা লড়াই এখন আন্তর্জাতিক প্রক্সি যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইস্যু করা এক বিশেষ বিবৃতিতে এই হামলার কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হুথি মিলিশিয়ারা ইয়েমেনের নিজস্ব একটি যাত্রীবাহী বিমানকে সানা বিমানবন্দরে নামতে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টি করে। ঠিক একই সময়ে তারা ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে জোরপূর্বক সেখানে অবতরণের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সরকারের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ও দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হুথিরা ইরানের সাথে সন্দেহজনক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এবং ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতেই সরকারের যুদ্ধবিমানগুলো বিমানবন্দরের মূল রানওয়ে লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করে তা পুরোপুরি অকেজো করে দেয়।

এমন আকস্মিক ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্য ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। ওই সতর্কবার্তায় সানায় অবস্থানরত সাধারণ নাগরিক, বিমানবন্দর কর্মী, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার লোকজনকে অবিলম্বে বিমানবন্দর ও তার আশপাশের এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরপরই ইয়েমেনি বিমানবাহিনী এই সুনির্দিষ্ট হামলাটি পরিচালনা করে।

এদিকে এই হামলার পর ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা এই আক্রমণকে কাপুরুষোচিত আগ্রাসন বলে আখ্যায়িত করেছে এবং এর কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, এই নগ্ন আগ্রাসনের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত পক্ষগুলোকে কোনোভাবেই শাস্তিহীন ছেড়ে দেওয়া হবে না। তবে হুথিরা কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এই সরাসরি হামলার পেছনে সৌদি আরবের রাজকীয় বিমানবাহিনীর হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সানা বিমানবন্দরে এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার পরোক্ষ বিরোধ আবারও সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি প্রক্রিয়া ও ইয়েমেনের অবরুদ্ধ সাধারণ মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান রুট এই সানা বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে নতুন করে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।