খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
নেপালে অনুষ্ঠিত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল ম্যাচের ঠিক আগের ভোরে এক মর্মান্তিক সংবাদের মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক শিউলি আজিম। ভারতের গোয়ায় দলের সঙ্গে অবস্থানকালেই তিনি তাঁর মাতৃবিয়োগের খবর পান। তবে ভৌগোলিক দূরত্ব এবং ফ্লাইট জটিলতার কারণে মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখা কিংবা শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাননি এই ফুটবলার। দলের স্বার্থ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে গোয়াতেই অবস্থান করতে হচ্ছে।
গতকাল ভোর ৫টায় বাংলাদেশ শিবিরে পৌঁছায় শিউলি আজিমের মা বাসনা আজিমের মৃত্যুর সংবাদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং মাত্র ৪৫ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই আকস্মিক দুঃসংবাদে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের পূর্বনির্ধারিত সকাল ৭টার অনুশীলন সেশনটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয় এবং সারা দিনে মেয়েরা আর মাঠে নামেননি। পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ ও শোক কাটিয়ে উঠতে বিকেলে সমুদ্রসৈকতে কিছু সময় কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে শিউলি আজিমও দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ জানান, শিউলি আজিমকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানোর জন্য বাফুফে ও দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ভারতের গোয়া থেকে বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থা ও ফ্লাইট শিডিউলের জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, গোয়া থেকে রওনা দিয়ে শিউলির ঢাকা পৌঁছাতেই পরদিন দুপুর ১২টা বেজে যেত। এরপর ঢাকা থেকে সড়কপথে তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুরে পৌঁছাতে আরও অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগত। এত দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে শিউলির অনুপস্থিতিতেই গতকাল তাঁর মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) একজন প্রতিনিধি ইতিমধ্যেই কলসিন্দুরে শিউলির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন। মৃত্যুকালে বাসনা আজিম শিউলি ছাড়াও তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
চলতি সাফ টুর্নামেন্টে গোয়ায় আসার পর থেকেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন শিউলি আজিম। বুকে ব্যথার কারণে মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। তবে ভারতের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কলসিন্দুর থেকে উঠে আসা শিউলি আজিম বাংলাদেশ নারী ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ। শত প্রতিকূলতা ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে বাসনা আজিম তাঁর মেয়েকে ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ যখন সেই স্বপ্ন সফল, তখন মেয়ের সাফল্যের দিনে তিনি চিরবিদায় নিলেন, আর মেয়ে রয়ে গেলেন হাজার মাইল দূরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গুরু দায়িত্বে।
নিচে শিউলি আজিমের পারিবারিক তথ্য এবং চলতি সাফ টুর্নামেন্টে তাঁর অংশগ্রহণের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| খেলোয়াড়ের নাম ও পজিশন | শিউলি আজিম (সেন্টারব্যাক) |
| মাতার নাম ও বয়স | প্রয়াত বাসনা আজিম (৪৫ বছর) |
| মৃত্যুর কারণ | কিডনিজনিত জটিলতা |
| স্থায়ী ঠিকানা | গ্রাম: কলসিন্দুর, উপজেলা: ধোবাউড়া, জেলা: ময়মনসিংহ |
| পরিবারের সদস্য | ৩ ভাই ও ২ বোন (শিউলিসহ) |
| চলতি টুর্নামেন্টের ভেন্যু | গোয়া, ভারত |
| মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ | বুকে ব্যথার কারণে অংশ নেননি |
| ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ | বদলি খেলোয়াড় হিসেবে অংশগ্রহণ |
| অনুশীলন বাতিল | মায়ের মৃত্যুসংবাদে গতকাল সকালের অনুশীলন বাতিল |